এভাবে বুদ্ধি দিয়েই জিততে হবে

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ০৩:০২ এএম

অসাধারণ জয়। আসলে টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়াটাই আমাদের জন্য বেশি ভালো হয়েছিল। গতকাল সাউদাম্পটনের রোজ বোলে আফগানিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারাল বাংলাদেশ। যে ম্যাচে আমাদের ৭ উইকেটে করা ২৬২ উইনিং স্কোরই ছিল। এই উইকেটে এতটা রান তাড়া করে জেতা সহজ না। বিশেষ করে আমাদের বোলিং লাইনআপ যা ছিল তা যথেষ্ট ছিল ওদের হারাতে। বাংলাদেশের দুজন জেনুইন স্পিনার ছিল। সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এর সঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেন চমৎকার বল করেছে। সব মিলে বোলিং-ফিল্ডিং দারুণ হয়েছে। সবাই ভালো করেছে।

এই বিশ্বকাপে এখনো আমরা সেমিফাইনালের স্বপ্ন ধরে রেখেছি। আগামী ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে। মাঝে সপ্তাহখানেক বিরতি আছে। এর দু-তিন দিন পুরো দল হয়তো বিশ্রামে থাকবে। তারপর ভারতকে হারানোর পরিকল্পনা কষতে বসবে বাংলাদেশ দল। আমাদের খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। যা দলের কাজে আসছে। শেষ পর্যন্ত সম্মিলিত পারফরম্যান্সে পরিণত হচ্ছে। এটা ধরে রাখতে পারলে ভারত কেন, যে কাউকে হারানো সম্ভব। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে আমাদের দলের পারফরম্যান্স অসাধারণ।

অন্যান্য দলের তুলনায় আমাদের ব্যাটিং তো দুর্দান্ত। গতকাল যেমন উইকেট ছিল তাতে ব্যাটসম্যানরা বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং করেছে। এভাবে বুদ্ধি দিয়েই খেলতে হবে। অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞরা অসাধারণ ফর্মে আছে। বিশেষ করে সাকিবের কথা বলতেই হয়। এই বিশ্বকাপে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সব দিকে ও যা করছে তা-ই ভালো হচ্ছে। এটা যেন ধরে রাখতে পারে সেই প্রার্থনা করি। মুশফিকও ব্যাটিং-কিপিং সবটাতে চমৎকার ফর্মে আছে। তামিম ইকবাল ফর্মে ফিরেছে। গেল দুই-তিন ম্যাচে ভালো শুরু পাচ্ছে। আশা করি সামনে ইনিংস বড় হবে। এছাড়া সাকিব-মিরাজ-মোসাদ্দেক-সাইফউদ্দিন চমৎকার বলও করেছে। সামনের প্রতিটি ম্যাচ আরও গুরুত্বপূর্ণ। বলতে পারেন নকআউটের মতো। এভাবেই আমরা যেন খেলতে থাকি এবং পরের ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে তার পরেরটার জন্য আরও বেশি আত্মবিশ্বাসে নিজেদের তৈরি রাখি। মোটকথা, এই জয়ের ধারা যেন ধরে রাখি।

টস জিতে বাংলাদেশ যদি বল করত আগে আর আফগানিস্তান ২৬২ করে ফেলত তাহলে ওটা তাড়া করে জেতা আমাদের জন্য হয়তো কঠিন হতো। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ বিবেচনা করে। উইকেটে স্পিন খুব ভালো ধরেছে। আফগানদের তিন স্পিনারই খুব ভালো বল করেছে। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং চমৎকার হয়েছে। রান আরেকটু বেশি হলে ভালো হতো। শেষ ১০ ওভারে আমরা ৬৯ রান তুলেছি। ৩ উইকেট হারিয়েছে। এই জায়গায় আরেকটু বেশি রান তোলা গেলে চমৎকার হতো। কারণ, উইকেট ছিল আমাদের হাতে। সাউদাম্পটনের এই রোজ বোলে ইনিংসে গড় রান ২২০। সেখানে ২৬২ তো উইনিং স্কোর।

একটা জায়গায় মনে হয়েছে আমাদের মিসিং ছিল। লিটনকে এই ম্যাচে ওপেনিংয়ে নামানো হলো। তার আগের সব ম্যাচে সৌম্য সরকার ব্যাটিং ওপেন করেছে। সৌম্য তখনই খুব ভালো খেলে যখন ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার লাইসেন্স তাকে দেওয়া হয়। এই বিশ্বকাপে মাঝের ওভারগুলোতে সে কিন্তু তেমন ভালো খেলতে পারেনি। বিশেষ করে ১০ ওভারের পরের ওভারগুলোতে কীভাবে খেলতে হয় সেটা তার কাছ থেকে দেখা যায়নি। মিসিং ছিল এই জায়গাটিতে।

ধাক্কা খাওয়ার পরও দল অবশ্য ভালো সামলে উঠেছিল ব্যাটিংয়ে। মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর ফিফটি রানের জুটিতে সেটা হয়েছে। নইলে কিন্তু ব্যাকফুটে চলে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। ওখানে ব্যাক টু ব্যাক দুটি উইকেট পড়ে গিয়েছিল। সাকিব ও সৌম্য পরপর অল্প রানের ব্যবধানে আউট হয়ে যাওয়ায় ঝামেলা হতে পারত। সেটা হয়নি ওই জুটির কল্যাণে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত