ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৮১০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। বাজেটে গবেষণার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৪০ কোটি ৮০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
বুধবার সিনেট অধিবেশনে আগামী অর্থবছরের জন্য এ বাজেট পেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামাল উদ্দীন। এবারের সিনেট অধিবেশনে দীর্ঘ ৩ দশক পর যোগ দেন ডাকসু মনোনীত ৫ ছাত্র প্রতিনিধি।
এদিকে, সিনেট অধিবেশন চলাকালে ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।
সিনেটের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। বাজেটে মুক্তিযুদ্ধে জীবন দানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাদের আত্মার শান্তির জন্য মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রশীদ।
অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সামাদ, সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, নির্বাচিত রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধিগণ ও ৫ ছাত্র প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৭৬১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে এ বছর বাজেট বেড়েছে ৬৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
ঢাবি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৮১০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার বাজেটের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ৬৯৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাত থেকে ৬৬ কোটি টাকা আসবে। বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতি ধরা হয়েছে ৪৫.৭৭ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এতে ২৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা মোট বাজেটের ৩১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ভাতাদি বাবদ ১৯৫ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা যা মোট ব্যয়ের ২৪.১৭ শতাংশ। পণ্য ও সেবা বাবদ ১৭১ কোটি ৭৬ টাকা যা মোট ব্যয়ের ২১.১৯ শতাংশ। বিশেষ অনুদান খাতে ১০ কোটি ৫৯ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা যা মোট ব্যয়ের ১.৩১ শতাংশ এবং অন্যান্য অনুদান খাতে ১৭৫ কোটি ৬৯ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা যা মোট ব্যয়ের ২১.৬৮শতাংশ।
এবারের সিনেট অধিবেশনে আলোচ্য সূচির মধ্যে রয়েছে, উপাচার্যের অভিভাষণ, কোষাধ্যক্ষের বাজেট উপস্থাপন, পূর্ববর্তী অধিবেশনের কার্য-বিবরণী অনুমোদন, ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক বিবরণী বিবেচনা, জগন্নাথ হল ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মনোনয়ন এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য ছয়জনের একটি প্যানেল অনুমোদন।
বাজেট উত্থাপনকালে কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামাল উদ্দীন বলেন, সরকার থেকে যে অর্থ বরাদ্দ আমরা পাই, তা দিয়েই আমাদের চলতে হয়। আমাদের নিজস্ব আয় অতি সামান্য। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যয় সরকার বহন করবে না ছাত্রী-ছাত্রীকে বহন করা উচিত তা নিয়ে সারা বিশ্বে বিতর্ক হচ্ছে। আমার ব্যক্তিগত অভিমত, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্রকৃত মেধা লালনের জন্য ব্যয়ের সিংহভাগ অবশ্যই সরকারকে বহন করা উচিত।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সুশাসন ও সুনীতিচর্চার মূল কেন্দ্র। আর্থিক খাতসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন স্তরে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক শিক্ষা ও শুধুমাত্র সনদ প্রদান বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, মেধা বিকাশ, মুক্ত চিন্তা-চেতনার উন্মেষ ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ। এ লক্ষ্য অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডাকসু’র আজীবন সদস্য পদ প্রদানের জন্য তিনি ডাকসু নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।
