আর থামতে চায় না পাকিস্তান। এবার তাদের সামনে আফগানিস্তান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে সরফরাজ আহমেদরা। এবার শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে বাকি দুই ম্যাচের দুটিতেই জিততে হবে পাকিস্তানকে। এর একটি আফগানদের বিপক্ষে আজ। সব অনিশ্চয়তা দূরে ঠেলে সেমিফাইনালের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে চায় পাকিস্তান।
তিন হার ও একটি পরিত্যক্ত ম্যাচ নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের হুমকিতে পড়ে যায় পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তাদের জেতা ছিল বিশাল কঠিন। এই টুর্নামেন্টে অজেয় দলগুলোর একটি ছিল নিউজিল্যান্ড। কেন উইলিয়ামসনের অধীনে দারুণ ছন্দে এগোচ্ছিল কিউইরা। একটি ম্যাচও না হারা দলটি থামে পাকিস্তানের কাছেই। শুরুতে শাহিন শাহ আফ্রিদির আগুনঝরা বোলিং ও পরে বাবর আজমের সেঞ্চুরিতে গুরুত্বপূর্ণ জয় মিলে একবারের বিশ্বজয়ীদের। আর এ জয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের স্বপ্ন ধরে রাখে পাকিস্তান। গত ম্যাচের জয়ে একটি অলৌকিক ব্যাপারও হয়ে যায় তাদের সঙ্গে। ১৯৯২ বিশ্বকাপের সঙ্গে মিল রেখে এগিয়ে চলছিল পাকিস্তানের চলতি আসর। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে জিতে সেই মিলটা আরও গভীর হয়। সেবার সাত ম্যাচে যেভাবে-যেভাবে পাকিস্তানের হার-জিত এসেছিল তা-ই হয়েছে এবারও। কাকতালীয় ব্যাপারটি সরফরাজদের বিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেমিফাইনালের পথে আজ আফগান বাধা টপকাতে নামবে পাকিস্তান। যে দলটির বিপক্ষে টুর্নামেন্টের শুরুতে প্রস্তুতি ম্যাচে হেরে গিয়েছিল তারা। ওই ম্যাচে বাবর আজমের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ৪৭.৫ ওভারে ২৬২ রানে অল আউট হয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ৪৯.৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬৩ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় আফগানরা। ওই একটি জয় বাদে এবারের আসরে আর কোনো ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি নবি-রশিদরা। টুর্নামেন্ট থেকে অনেক আগেই ছিটকে গেছে তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে হারানোর কিছু নেই দলটির। তবে শেষটায় একটু ইতিবাচক কিছুর খোঁজে আফগানিস্তান। সেই লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশের সঙ্গে চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি তারা। তবুও দিন শেষে ব্যর্থতা তাদের ঝুলিতে। এর আগে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ভালো ক্রিকেট খেলে হেরে যায় আফগানিস্তান। এবার এশিয়ার আরেক প্রতিপক্ষকে পেয়ে অধরা জয় ধরা দেবে কি তাদের?
আফগানিস্তান আত্মবিশ্বাস নিতে পারে ওই প্রস্তুতি ম্যাচ থেকেই। এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে সফলতা নেই তাদের। ২০১২ থেকে ২০১৮ তিনটি এশিয়া কাপে তিনবারই হেরেছে আফগানরা। তাই আজকের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে পাকিস্তানই। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই জয়ের সুখস্মৃতি তো সরফরাজদের সঙ্গে আছেই।
