মেরকেলের কাঁপুনি

জার্মানিতে ঝাঁকুনির শঙ্কা

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ১০:৫৭ পিএম

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলকে গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব মিডিয়ায় কাঁপুনিরত অবস্থায় দেখা যায়। মেরকেলের এই শারীরিক কাঁপুনি নিয়ে প্রথম সংবাদ করে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান। ২০১৫ সালে জার্মানিতে শরণার্থী সংকট শুরুর পর দ্য সান বেশ কয়েকবার মেরকেলের ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সেই শঙ্কা বাস্তবে মুখ দেখেনি। তবে মেরকেল নিজ দেশের রাজনীতিতে যে বেশ ভালো কোণঠাসা অবস্থায় আছেন তা স্পষ্ট হয়েছে।

কেন মেরকেল কাঁপছিলেন এ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের অফিস থেকে দেওয়া বিবৃতিতে শুধু বলা হয় ‘তিনি ভালো আছেন’। তবে মেরকেলের মুখপাত্র স্টেফান সেইবার্ট বিষয়টি নিয়ে একবারও মুখ খোলেননি। অথচ ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নতুন মন্ত্রী এবং ফেডারেল প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টারের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় কাঁপছিলেন মেরকেল। শুধু তাই নয়, চেষ্টা করেও কাঁপুনি থামাতে পারছিলেন না তিনি। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও কেঁপেছিলেন মেরকেল। তখন বলা হয়েছিল, উষ্ণ আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ায় কেঁপেছিলেন তিনি।

গত ১৪ বছর ধরে জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে আছেন ৬৪ বছর বয়সী মেরকেল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতার এমন শারীরিক অবনতিতে জার্মানির রাজনীতিতে নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝাঁকুনি আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শুধু জার্মানি নয়, গোটা ইইউ সংকটের মুখে পড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ, ইউরোপে এখন চলছে ডানপন্থিদের জয়জয়কার। এমন পরিস্থিতিতে মেরকেল একাই ডানপন্থিদের উত্থান আটকে রেখেছেন।

আগামী ২০২২ সালে জার্মানিতে পরবর্তী ফেডারেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু মেরকেলের পার্টি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটির ইউনিয়ন (সিডিইউ) জনমত জরিপে মাত্র ২৫ শতাংশ রেটিং পেয়েছে। সিডিইউর কাঁধে নিঃশ্বাস ফেলছে গ্রিন পার্টি। সিডিইউর জোটসঙ্গী সেন্টার লেফ্ট ডেমোক্র্যাটস (এসপিডি) পার্টির রেটিং আরও কমে ১২ শতাংশে ঠেকেছে।

এমন অবস্থায় শারীরিক কারণে মেরকেলকে সরে যেতে হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে উত্তরসূরি অ্যানিগ্রেট ক্র্যাম্প চ্যান্সেলর হলেও তিনি তার পূর্বসূরির মতো হবেন না। এসপিডি ও সিডিইউ উভয় পার্টিই নির্বাচনে রাজি নয়। এমন অবস্থায় গ্রিন পার্টির সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করতে হতে পারে সিডিইউর। আর তা হলে জার্মানির রাজনীতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে সবচেয়ে বড় ঝাঁকুনির সৃষ্টি হবে, যা ইউরোপে জার্মানির নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত