কাপে অর্ধেক চা দেওয়ায় গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতন

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৯, ০৬:৪৩ পিএম

মেহমানদের কাপে অর্ধেক চা দেওয়া হয়েছে অজুহাতে চট্টগ্রামে এক গৃহকর্মীর শরীরে গৃহকর্ত্রীর অমানবিক নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। ওই গৃহকর্মীকে দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।

গৃহকর্মীর শরীরের নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন দেখে বিস্মিত পুলিশ ওই গৃহকর্ত্রী নাছিমা আক্তার জেসিকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার মধ্যরাতে ডবলমুরিং থানায় এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর নাছিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি একবার পালিয়ে গেলেও ভয়ভীতি দেখিয়ে ফের ওই গৃহকর্মীকে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই গৃহকর্মীর মুখ ও হাতসহ বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া ও কেটে দেওয়ার দাগ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই গৃহকর্মী বরিশাল জেলার বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই চট্টগ্রামে থাকেন তিনি। বেশ কয়েক বছর ধরেই নাছিমার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করছেন। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত গৃহকর্ত্রীর নাছিমা আক্তার জেসি পাহাড়তলী থানার মো. জমির উদ্দিনের স্ত্রী। তবে তারা এখন ডবলমুরিং থানার নিরিবিলি আবাসিক এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে বাস করেন।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহকর্মীর অভিযোগ, তাকে দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপও চালাতেন নাছিমা আক্তার। এতে শাহিনুর রাজি না হলেও পিটুনি দিতেন। নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি একবার বাসা ছেড়ে চলে যান। কিন্তু মামলার হুমকি দিয়ে পুনরায় তাকে বাসায় ফিরিয়ে আনেন নাছিমা। তারপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন।

সর্বশেষ গত বুধবার বিকেলে ওই বাসায় আমেনা বেগম, সোমা বেগম, সনিয়া বেগমসহ কয়েকজন অতিথি আসেন। অতিথিদের 'কাপে অর্ধেক চা দেওয়া হয়েছে' এ অজুহাতে তার শরীরে গরম চা নিক্ষেপ করেন নাছিমা আক্তার। পরে তাকে বটি দিয়ে হাতে ও মাথায় এলোপাতাড়িভাবে কোপ দেয়। তিনি যাতে চিৎকার করতে না পারে, সেই জন্য তার মুখে ওড়না মুখে গুঁজে দেন নাছিমা। আঘাতের পর তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লে তাকে ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়। কিন্তু কাউকে কিছু না বলার জন্য নিষেধ করেন নাছিমা।

মারধর ঘটনার চার দিন পর শনিবার ওই বাসায় বুধবার আসা অতিথিরা পুনরায় বেড়াতে এলে তাকে দেখেন। তার হাতে শরীরে ক্ষতবিক্ষত দাগ দেখে তারাই ডবলমুরিং থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে শাহিনুরকে উদ্ধার ও আসামি নাছিমাকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার বিষয়ে নগর পুলিশের ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার আশিকুর রহমান বলেন, মামলার বাদীর মুখ, হাত ও শরীরে বিভিন্ন অংশে অমানুষিক নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে। যা অমানবিক। তাই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত