চাঁদপুরের কচুয়ায় গৃহবধূ শাহানাজ বেগম হত্যা মামলায় স্বামী মো. মঞ্জিল মিজিসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে উভয় আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খাঁন আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- কচুয়া উপজেলার শফিবাদ এলাকার মৃত মোবারক মিজির ছেলে মো. মঞ্জিল মিজি এবং একই উপজেলার চাংপুর এলাকার মৃত রমিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মিজানুর রহমান প্রকাশ ডিষ্টিক মিজান। নিহত গৃহবধূ শাহানাজ কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার মো. শাহ আলমের মেয়ে।
মামলার এজাহার সূত্রের বরাত দিয়ে চাঁদপুরের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আমান উল্যা জানান, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শফিবাদ এলাকায় ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে শাহনাজ বেগমকে তার স্বামী মঞ্জিল ও বন্ধু মিজান গলাচেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
এই ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর শাহনাজের বাবা মো. শাহ্ আলম বাদী হয়ে কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
বিয়ের পর থেকে মঞ্জিল বিদেশ যাওয়ার জন্য শাহনাজের পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। শাহনাজের পরিবার তাকে ২ লাখ টাকা যৌতুক প্রদান করলেও মঞ্জিল বিভিন্নভাবে স্ত্রীর উপর অত্যাচার করে আসছিলেন। এ নিয়ে তাদের মাঝে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিলেন। ঘটনার রাতে স্বামী মঞ্জিল ও তার বন্ধু মিজান শ্বাসরোধ করে শাহনাজকে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে কচুয়া থানার এসআই মো. নিজাম উদ্দিন ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ ৮ বছর মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আমান উল্যা ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোক্তার আহম্মেদ।
