পুলিশের চাকরি পাচ্ছেন নরসিংদীর হাজীপুরে শ্বশুর বাড়ির লোকদের দেওয়া আগুনে পুড়ে নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসি ওরফে জান্নাতির বড় ভাই সাইফুল খাঁন।
সাইফুল কনস্টেবল পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে নরসিংদীর পুলিশ লাইনে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার নরসিংদী পুলিশ লাইনে কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় ১২ শ প্রার্থীর সঙ্গে অংশ নেন সাইফুল খাঁন। সবশেষে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন ৭৬ জন। তাদের একজন হলেন শ্বশুর বাড়ির দেওয়া আগুনে নিহত জান্নাতির বড় ভাই সাইফুল খাঁন।
জানা গেছে, ঢাকায় ফেরি করে চা বিক্রি করেন নিহত জান্নাতির বাবা শরীফুল ইসলাম খাঁন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে হাজিপুর গ্রামের একটি কুটিরে বসবাস করেন জান্নাতির মা ও দাদা। মুক্তিযোদ্ধা দাদার ভাতা ও চা বিক্রির টাকায় খুব কষ্টে চলে তাদের সংসার। সাইফুল সবার বড়। তিনি রায়পুরা সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। ছোট ভাই হাবিবুর রহমান অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে অর্থের অভাবে আর পড়াশোনা করতে পারেনি। আর ছোট বোন জান্নাতুল মাওয়া হাজিপুর নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ছয়জনের পরিবারে অভাব-অনটন তাদের নিত্য সঙ্গী। জান্নাতির মৃত্যুর পর তার দাদা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান সবার কাছে নাতি সাইফুলের চাকরির জন্য আরজি জানান।
অবশেষে সাইফুল পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়ায় তাদের পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা।
নিহত জান্নাতির বাবা শরীফুল ইসলাম খান বলেন, সাইফুলের চাকরি হওয়াতে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পাচ্ছি।
জান্নাতির দাদা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, সাইফুলের চাকরি পাওয়ার খবরে আমাদের পরিবার অনেক খুশি। সাইফুলকে চাকরি ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান।
জান্নাতির বড় ভাই সাইফুল খাঁন বলেন, পুলিশে চাকরি পাওয়ার মাধ্যমে আমি পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারব। চাকরিতে দায়িত্ব পালনের সময় পরিবারের পাশাপাশি দেশের মানুষের ভালোর জন্য কাজ করতে চাই।
নরসিংদী পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জান্নাতির ভাই সাইফুল তার মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। জান্নাতির পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে। সাইফুলের চাকরি পাওয়ার মাধ্যমে পরিবারটা ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারবে।
মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় নরসিংদীর হাজিপুরের দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী জান্নাতি আক্তার (১৬) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দীর্ঘ ৪০ দিন দগ্ধ যন্ত্রণায় কাতরানোর পর গত ৩০ মে অবশেষে সে চলে যায় না ফেরার দেশে।
