ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল বুধবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঊর্মি আক্তার (১৮) নামে ওই রোগীর স্বজনের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তিনি (ঊর্মি) মারা গেছেন।
কামরাঙ্গীরচরের মাদবর বাজার ৫ নম্বর গলি আচারওয়ালা ঘাটের বাসিন্দা জাকির হোসেনের স্ত্রী ঊর্মি। এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঊর্মির সঙ্গে তার পেটের সন্তানটিও মারা গেছে।
ঊর্মির দেবর মো. ইমন দেশ রূপান্তরকে জানান, গত মঙ্গলবার রাতে তার ভাবির পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। তাকে হাজারীবাগের সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে দেখে জানান, তার দ্রুতই অস্ত্রোপচার করে বাচ্চা বের (সিজার) করতে হবে এবং সিজারের পর বাচ্চাটিকে ইনকিউবেটরে রাখতে হবে। কিন্তু ওই হাসপাতালে ইনকিউবেটর নেই। পরে ঊর্মিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২১২ নম্বর গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয় ঊর্মিকে। ভর্তির পর ব্যথা আরও বাড়তে থাকে। তখন স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সিজার করার অনুরোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা বলেন, ‘এই মুহূর্তে সিজার করা সম্ভব নয়। এটি নরমালই ডেলিভারি হবে। ঊর্মি সারা রাত যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। তখন চিকিৎসকদের বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি। তারা শুধু ধৈর্য ধরতে বলেন। এরপর যন্ত্রণায় ঊর্মি নিজেই অস্ত্রোপচার কক্ষে চলে যান। সেখানে তিনি নিজেই ডাক্তারদেরকে সিজার করে বাচ্চা বের করতে বলেন। তবে চিকিৎসকরা তার কথাও শুনেননি। ভোরে তিনি মারা যান।’
