প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটিতে না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দ্রুত এই স্কুলটিতে অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর জন্য স্কুলটির গভর্নিং বডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আনোয়ারুল হক স্বাক্ষরিত আদেশে এসব বলা হয়।
২৬ এপ্রিল ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ ছিল এই পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।
অভিভাবকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
এ নিয়ে মন্ত্রণালয় তদন্ত কমটিও গঠন করে। তদন্ত শেষে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটিতে ছিলেন স্কুল গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম, গভর্নিং বডির অভিভাবক প্রতিনিধি আতাউর রহমান ও ডা. মজিবুর রহমান হাওলাদার এবং সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রশাসন শাখার পরিচালক শায়েদুল খবির চৌধুরী।
পাঁচজনের ওই নিয়োগ কমিটি ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ পদে দুদকের বিতর্কিত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের স্ত্রী রুমানা শাহীন শেফার নিয়োগ চূড়ান্ত করে।
অভিযোগ ওঠে, ৬০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ভিকারুননিসার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হতে চেয়েছিলেন রুমানা শাহীন শেফা। শেফা বর্তমানে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে।
এই কমিটির প্রধান ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজি।
বাকি দুই সদস্য হলেন- ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুনুর রশীদ ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকার পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. আনোয়ারুল আউয়াল খান।
তারা সরেজমিনে তদন্ত করে জুন মাসে সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইনের কাছ তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেন।
সেই তদন্তের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এ ব্যবস্থা নেয়া হলো।
