হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ৩৩.৫ ওভারে সাকিব আল হাসানের উইকেট পড়তেই কিছু তরুণের মুখে হাসি ফুটে উঠল। সাকিবের উইকেট পড়তে দেখে কষ্ট/খারাপ লাগার পরিবর্তে আনন্দিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিল্লাল হুসেন নামে এক শিক্ষার্থী (বাজিকর) জানান,‘বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি ভাই। আজকে বাজীর রেট বেশি ছিল। ইন্ডিয়া হারলে ১ হাজারে ৩৭০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হতো’।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সংলগ্ন চকবাজার এলাকার মুদির দোকানে গত পরশু বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যকার খেলা চলাকালীন সময়ের দৃশ্য এটি। বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে প্রতিদিনই এখানে বসছে রমরমা জুয়ার আসর।
প্রায় একই চিত্র বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শিক্ষার্থীদের মেস অধ্যুষিত পার্কের মোড়, সরদার পাড়া, চকবাজার, মডার্ন মোড় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ মুখতার ঈলাহী হলে। এসব আসরে যোগ দেওয়া বেশির ভাগই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী কারমাইকেল কলেজের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
কিসের ওপর ভিত্তি করে বাজী ধরা হয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাজীকর জানান দলের হার-জিত,পরের বলে কয় রান, বা চার-ছক্কা হবে কিনা, এই বলে ব্যাটসম্যান উইকেট হবে নাকি ডট যাবে, সাকিব, কোহলি কিংবা রুটের মতো ব্যাটসম্যান ফিফটি না সেঞ্চুরি করবে কিংবা আমির স্টার্ক মোস্তাফিজ কয় উইকেট পাবে, টসে কে জিতবে, ওভার বাজী (ওভারে কয়রান) ইত্যাদির ওপর বাজী ধরা হয়।
কারমাইকেল কলেজের রিপন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, সহপাঠীদের অনেকেই এই ক্রিকেট জুয়ায় মজেছেন। নিজেদের মেসে বা পাড়ার চায়ের দোকানে প্রতিদিনই বসছে এ রকম জুয়ার আসর। দু-একজন মাঝেমধ্যে কিছু পয়সা জিতলেও শেষ পর্যন্ত সবাই হারছেন। এই জুয়ায় হেরে আমার পাশের রুমের এক বন্ধু মোবাইল ফোন বেচতে বাধ্য হয়েছেন। আবার অনেকেই মেসের ভাড়া বকেয়া রেখেছেন।
কিভাবে ক্রিকেট বাজীতে জড়িয়ে পড়লেন জানতে চাইলে আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী জানান, বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে গিয়েই জুয়ায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠা। শুরুতে চা, সিগারেট কিংবা নাশতার বিনিময়ে খেলা হতো, কিন্তু এখন টাকা দিয়ে খেলি। টাকার জোগান কিভাবে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাসায় ভর্তি, ফরম পূরণ, নতুন সেমিস্টারের বই কেনা ইত্যাদি মিথ্যা বলে বাবা মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জুয়ার টাকার জোগান দেয়া হয়।
কেবল স্থানীয় পর্যায়ে নয়, অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন ইন্টারনেট ভিত্তিক বাজীর সাইটে। আশিক চন্দ নামে একজন বলেন, দুই বছর ধরে ক্রিকেটের বিভিন্ন আয়োজনে বাজি ধরে আসছি। বিট এশিয়া ৩৬৫ নামের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাজি ধরি। এ রকম বহু কোম্পানি রয়েছে। যারা ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক লিগ বা টুর্নামেন্ট চলার সময় বাজির আয়োজন করে। ম্যাচ শুরুর আগেই বাজির দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ এক টাকা বাজি ধরার পরে জিতলে কত টাকা দেওয়া হবে এবং হারলে কত টাকা দিতে হবে, সেই দরটা নির্ধারিত হয়।
