যুক্তরাজ্যের ভোটাররা খুব জলদিই ভোটের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে যাচ্ছেন। কিন্তু এ এমন এক নির্বাচন, যেখানে দেশের সবার ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্যের একটি দল যারা দেশটির মোট ভোটারের শূন্য দশমিক ২ শতাংশ, তাদের ভোটেই নির্বাচিত হবেন প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাজ্যে যখন কোনো প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন, যেমনটা ব্রেক্সিট নিয়ে টেরিজা মে করেছেন, এমন অবস্থায় সাধারণ নির্বাচনের প্রয়োজন হয় না। দেশটির সংসদীয় ব্যবস্থায় সংসদের সবচেয়ে বড় পার্টির প্রধানই হন প্রধানমন্ত্রী। কোনো কারণে যদি পার্টিপ্রধানের পরিবর্তন হয়, তাহলে নতুন পার্টিপ্রধান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান।
এ ক্ষেত্রে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টকে পার্টিপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত করতে ভোট দেবেন কনজারভেটিভ পার্টির ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্য। এই সদস্যদের মধ্যে যেমন ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ রয়েছে, তেমনি আছে সমাজের অতি ধনীরা। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক টিম বেইলের মতে, এই দলে আধিপত্যবাদী শ্বেতাঙ্গ, মধ্যবিত্ত ও আরামবিমুখ মানুষও আছেন। তবে এই দলের ৯৭ শতাংশই শ্বেতাঙ্গ। অথচ যুক্তরাজ্যের ১৫ শতাংশ মানুষ এসেছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র আদিবাসী গোষ্ঠী থেকে। কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা বেশ ঐতিহ্যবাদী। বেইল বলেন, আপনি যদি তাদের অভিবাসন, বিচারব্যবস্থা ও শিক্ষা নিয়ে চিন্তার দিকে তাকান, তাদের মধ্যকার ডানপন্থি মনোভাব স্পষ্ট দেখতে পাবেন। এমন বাস্তবতা সাপেক্ষে দেখা যায়, পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ নেতারা সমকামী বিয়ের বৈধতা ও ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ভোট দিচ্ছেন। এই সদস্যদের ভোট নিয়ে দেশের ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষের চিন্তাকে এড়িয়ে বরিস জনসন ও জেরেমি হান্টকে পার্টির প্রধান হতে হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ব্রেক্সিট। কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে বহুদিন ধরেই দুটো গ্রুপ আছে, যাদের একপক্ষ ইউরোপের সঙ্গে থাকতে চায়, অন্যপক্ষ চায় না। ব্রেক্সিট নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির ব্যর্থতার মূল কারণ, ব্রেক্সিট ইস্যুতে পার্টির নেতারা জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। পার্টির একাংশ ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে এবং অপরপক্ষ নো ডিলের পক্ষে। ব্রেক্সিট নিয়ে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগের পরই কনজারভেটিভদের মধ্যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব দেখা যায়, যা বর্তমানে চূড়ান্ত আকার নিয়েছে।
