দক্ষিণাঞ্চলের ১৪ রুটে একুশ দিন ধরে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ১২:৪৮ পিএম

ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির সঙ্গে বরিশাল ও পিরোজপুর বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে ঝালকাঠির অভ্যন্তরীণ সড়ক দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ১৪ রুটে একুশ দিন ধরে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

গত ১৫ জুন শনিবার দুপুর থেকে বরিশাল বাস মালিক সমিতির পক্ষ অতিরিক্ত চাঁদা দাবির অভিযোগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৪টি রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি।

এর আগে তিন দফায় ২০১৭ সালের ১৭ থেকে ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি এবং একই বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বেশ কয়েক দিন বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভান্ডারিয়া, আমুয়া, নলছিটি, বরগুনার বামনা, পাথরঘাটা, পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া, বাগেরহাট, মোল্লারহাট ও খুলনাসহ ১৪ রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ ছিল। বর্তমানে ঝালকাঠির শেষ সীমানা কালিজিরা এলাকায় ও জেলার রাজাপুর উপজেলার শেষ সীমানা বটতলা এলাকায় নতুন বাসস্ট্যান্ড তৈরি করে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি সীমিত আকারে এসব পথে কিছু বাস চালাচ্ছে।

এতে করে সাধারণ যাত্রীরা বিকল্প পরিবহনে ঝালকাঠির কালিজিরা এলাকা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বরিশালের রুপাতলি বাসস্ট্যান্ডে ও রাজাপুরের শেষ সীমানা বটতলা এলাকা থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া গিয়ে অন্য বাসে উঠতে হচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াকাটাসহ সাত রুটে সাতটি ও পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে আরও পাঁচটি রুটে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির পাঁচটি বাস চলতে দেওয়ার দীর্ঘ দিনের দাবি গত ২০১৮ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে মেনে নেওয়ার সীদ্ধান্ত হয়েছিল।

কিন্তু এর আগেই বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কর্যালয়ে ঝালকাঠি ও বরিশাল বাস মালিক সমিতিসহ দুই জেলার শীর্ষ প্রশাসন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় গত ২০১৮ সালের ২৪ জুন এ ব্যাপারে মীমাংসা হয়। কিন্তু বরিশাল বাস মালিক সমিতি দক্ষিণাঞ্চলের সাত রুটে কয়েকটি বাস চলতে দিলেও পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ রুটে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির বাস চলতে দিচ্ছে না। তাই ঝালকাঠির পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে আরও পাঁচটি রুটে পাঁচটি বাস ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকরের দাবিতে এই ১৪ রুটে সরাসরি বাস বন্ধ রেখেছে ঝালকাঠি জেলা বাস মালিক সমিতি।

বরিশালের সঙ্গে সারাসরি বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঝালকাঠিসহ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুণে বিকল্পযান মাহেন্দ্র কিংবা ব্যাটারিচালিত গাড়িতে করে বরিশাল কিংবা পিরোজপুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

ঝালকাঠির বাসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান বলেন, “খুলনা ডাক্তার দেখাবার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। আগে ঝালকাঠি থেকেই বাসে করে সরাসরি খুলনা যেতে পারতাম। এখন মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে আমাদের অন্য জেলা পিরোজপুর থেকে বাসে করে খুলনায় যেতে হবে, তাই ভাঙা পথে রওনা হয়েছি। মলিক সমিতির এ দ্বন্দ্ব নিরসন হওয়া দরকার।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুল হক দুলাল বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া বিষয়টি বরিশাল বাস মালিক সমিতি ঝুলিয়ে রেখেছে। নতুন পাঁচ রুটে পাঁচটি বাস চলাচল কার্যকর হলেই ঝালকাঠি থেকে আবার নিয়মিত সব রুটে বাস চলাচল করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত