হালকা বৃষ্টিপাতেই দিনাজপুরের অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কারণেই শহরের বেশির ভাগ এলাকাতেই এমন পরিস্থিতি দেখা দেয়।
রোববার সকাল থেকে হালকা বৃষ্টি ঝরছে। এতেই দিনাজপুর সরকারি সিটি কলেজের নিচতলায় পানি প্রবেশ করেছে। শিক্ষার্থীসহ পাঠদানে ভোগান্তি পড়েছেন কলেজের শিক্ষকরা।
সরেজমিন দেখা যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্র বালুবাড়িতে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বেশির ভাগ এলাকা হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জনদুর্ভোগে পড়েছেন শহরের বেশির ভাগ এলাকার মানুষ।
দিনাজপুর সরকারি সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ফজলে রাব্বী বলেন, “সকাল ১০টার দিকে কলেজে গিয়ে দেখি কলেজের সামনে হাঁটু পানি জমে আছে। কলেজের ভেতরে ঢুকবো এমন পরিস্থিতিও নেই। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে সামান্য বৃষ্টিপাতেই কলেজের সামনে এমন জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। বর্ষার সময় আমাদের ক্লাসে যেতে খুবই অসুবিধা হয়।”
সিটি কলেজের আরেক শিক্ষার্থী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “কলেজ ক্যাম্পাসে পানির জন্য যাওয়াই মুশকিল। হাঁটু পানিতে অটো যায় না, আমরা জুতা খুলে হাতে নিয়ে তারপর কলেজে ঢুকি। একটু বৃষ্টি হলেই কলেজের নিচতলায় পানি উঠে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ এই শিক্ষার্থীর।

জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির কথা স্বীকার করে দিনাজপুর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “জলাবদ্ধতা বৃষ্টির দিনে সব জায়গাতেই হয় কিন্তু দিনাজপুরে অন্য জায়গার থেকে অনেক বেশি। সিটি কলেজ বাদেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় সামান্য বৃষ্টির পানি হলেই চলাফেরার খুবই অসুবিধা হয়।
এ বিষয়ে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, “আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দিনাজপুর শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ৭ কোটি টাকার টেন্ডার হবে। টেন্ডার হলেই দিনাজপুর শহরের উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু হবে।”
তিনি আরও জানান, শহরের ময়লা, পানি নিষ্কাশনসহ শহরকে নতুন রূপে সাজানোর জন্য চেষ্টা চলছে। আগামী এক বছরের মধ্যে আশা রাখি শহরের যেকোনো ভোগান্তি লাঘব করতে পারব।
