কুলখানির খিচুড়ি খেয়ে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু, অসুস্থ ৩০

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০৮:৪৯ পিএম

পাবনার বলরামপুর গ্রামে মিলাদের খিচুড়ি খেয়ে এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো ৩০ জন অসুস্থ হয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের ওই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

ডায়রিয়ায় মারা যাওয়া সুমাইয়া খাতুন সুখী শহীদ আহমেদ রফিক উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও বলরামপুর গ্রামের সেলিম শেখের মেয়ে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রঞ্জন কুমার দত্ত স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, শুক্রবার ওই গ্রামের মৃত ঈমান আলীর ছেলে শহিদ উদ্দিন তার বাবার কুলখানি উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে লোকজনকে খিচুড়ি খাওয়ান। খিচুড়ি খাওয়ার পর একে একে অসুস্থ হতে থাকেন গ্রামবাসী।

শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও রবিবার সকাল থেকে ওই গ্রামে প্রায় ৩০ জন অসুস্থ হয়ে যায়। পরে অসুস্থদের মধ্যে অন্তত ২৪ জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে আনার পথে সুমাইয়া খাতুন নামের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ডাইরিয়া ওয়ার্ডের চিকিৎসক হাবিবুল ইসলাম বলেন, ডায়রিয়াজনিত রোগেই এরা সবাই অসুস্থ হয়েছে। আর সুখী মারাত্মক অসুস্থ হলেও যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় হাসপাতালে আনার পথে মারা গেছেন।

অসুস্থ অধিকাংশই ডায়রিয়া ও পেটের পীড়া জনিত রোগে আক্রান্ত বলে দাবি করেছেন চিকিৎসকেরা। ধারণা করা হচ্ছে তারা খাবারে বিষক্রিয়া থেকে অসুস্থ হয়েছে। আমরা অসুস্থ রোগীদের মলের নমুনা আইসিডিডিআরবিতে পাঠিয়েছি। পরীক্ষার পর অসুস্থতার কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবদিন ঘটার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই গ্রামে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আমরা দোগাছি ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে এরই মধ্যে একটি স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন করে অসুস্থদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছি। তবে অনেকেই ওই মিলাদে অংশ গ্রহণ করে নাই এবং ওই খিচুড়ি খায় নাই, তবুও অসুস্থ হয়েছে। এমন লোকজনকেও আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে প্রকৃত ঘটনা কি।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা নিশ্চিত করার জন্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ২২ জন চিকিৎসককে সতর্কতার সাথে কাজ করার জন্যে অনুরোধ করা হয়েছে এবং নিহত মেয়েটির পরিবারকে তাৎক্ষণিক ভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি মন্ত্রণালয়ে অবহিত করার পরে ঢাকার রোগতত্ত্ব ও নিরাময় কেন্দ্রের একটি বিশেষজ্ঞ টিম পাবনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন ইতোমধ্যে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত