পৃথিবীর মানচিত্রে ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের আয়তন মাত্র ৫৯ বর্গমাইল। আয়তনে যাই হোক, এই দ্বীপপুঞ্জেই আছে চার লাখ ব্যবসায়িক কোম্পানি যা অনেক দেশেও নেই। সংখ্যায় বিশাল এই দ্বীপপুঞ্জের কোম্পানিগুলোর সম্পদের পরিমাণ প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন ডলার।
দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী রোড টাউনের রাস্তার অলিতে-গলিতে অফসোর কোম্পানি দেখা যাবে। এমনও ভবন দেখা যাবে যার নিচতলায় সেলুন আর ওপরের তলায় এমন সব কোম্পানির অফিস, যেগুলোর নাম ওই দ্বীপের বাইরে কোনো মানুষ জানে না।
এই দ্বীপপুঞ্জে নেই আলাদা মেইল সরবরাহের কোনো সুবিধা। স্থানীয় ৩২ হাজার বাসিন্দা আর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি পোস্ট অফিসের বক্সের ওপরই নির্ভর করতে হয়। রোড টাউনের একটি মাত্র পোস্ট বক্সে তাই স্থানীয় ও ব্যবসায়ীদের সব চিঠি এসে জড়ো হয়। রাজধানীতে ব্যবসায়ী কোম্পানি ছাড়াও চোখে পড়বে আইনজীবীদের ছোট ছোট অফিস। এই আইনজীবীরা স্থানীয় কোনো মামলা লড়ে না বা প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু ওই ছোট অফিসের আইনজীবীরাই নিয়মিত তাদের ব্যবসায়ী মক্কেলদের হয়ে আদালতে লড়াই করেন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, দ্বীপপুঞ্জের সবখানে প্রতি মিনিটে কোটি কোটি ডলারের লেনদেন হলেও দৃশ্যত কিছুই বোঝা যায় না। রোড টাউনেই আছে ব্যবসায়ী জগতে পরিচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিডিও এলএলপি লিমিটেডের দপ্তর। পুরো দপ্তরটি একটি চারতলা ভবনে অবস্থিত। ২০০৭ সালে পিও বক্স নম্বর ৯২৭২ এর অধীনে রোড টাউনে অফিস খোলে অলমাইটি ডলার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের অধীনেই কোনো নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবসা করে বিডিও এলএলপি।
তবে কারা এই দ্বীপপুঞ্জে ব্যবসা করছে তার বিস্তারিত তথ্য আছে দ্বীপের ফিনান্সিয়াল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির কাছে। তাদের কাছে মোট ছয় লাখ মালিকের তথ্য রয়েছে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই দ্বীপপুঞ্জে ব্যবসা করছে। ধারণা করা হয়, বিশ্বের মোট অফসোর কোম্পানির তিনভাগের একভাগই এই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত। গত বছর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে ব্যবসা করার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ভোটাভুটি হয়। পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তে বলা হয়, ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের কোম্পানিগুলোর প্রত্যেককেই ওই এলাকার বাইরে কোনো অফিস খুলতে হবে এবং ব্যবসার যাবতীয় তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ২০১৬ সালে পানামা পেপার্স ফাঁস হওয়ার ঘটনায় ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ আলোচনায় আসে। আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে ১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন নথি ফাঁস হয়ে যায়। ওই ফাঁসের ঘটনায় বেশ কয়েকটি দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার পালাবদল হয়।
