অ্যালগরিদম এলো কোথা থেকে

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ১২:০১ এএম

অ্যালগরিদমকে (গাণিতিক পরিভাষা) নতুন কিছু হিসেবে চিন্তা করার একটা প্রবণতা আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু গাণিতিক এই পরিভাষাটি মূলত ৯০০ বছরের পুরনো। অ্যালগরিদম শব্দটি এসেছে মূলত পারস্যের বিখ্যাত গণিতজ্ঞ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারিজমির নাম থেকে।

যিশুখ্রিস্টের মৃত্যুর ৭৮০ বছর পর বর্তমান উজবেকিস্তানে জন্মান খাওয়ারিজমি। তার নাম বলে দেয় যে, তিনি ছিলেন উজবেকিস্তানের খাওয়ারিজমি অঞ্চলের বাসিন্দা। আর্ল সাগরের নিকটবর্তী এই অঞ্চল।

খাওয়ারিজমি ছিলেন ‘হাউজ অব উইসডম’-এর প্রধান নির্বাহী। নবম শতকে বাগদাদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকারীদের মধ্যে এই স্কুলটি ছিল বেশ অগ্রগামী। গণিতশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, ভূগোল ও কার্টোগ্রাফিতে তার অবদান অসামান্য। ভারতবর্ষের হিন্দুদের গণনাশিল্পের ওপর তিনি একটি বই লেখেন, যা মানবসভ্যতার ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  ওই বই লেখার ৩০০ বছর পর মানুষ নতুন করে একে আবিষ্কার করে এবং লাতিন ভাষায় অনুবাদ করে। এই বইটিই প্রথম হিন্দু-আরবের সংখ্যাকে পশ্চিমের কাছে পরিচিত করিয়ে দেয়। আর ওই পরিচয়ের কারণে পশ্চিমারা সহজেই রোমান সংখ্যাতত্ত্ব থেকে সরে আসে।

হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতি ছাড়াও দশমিকের ধারণা নিয়ে খাওয়ারিজমি তার বইয়ে বিশদভাবে তুলে ধরেন। আজ আমরা সংখ্যা অর্থে যা ব্যবহার করি তার সৃষ্টি খাওয়ারিজমির মাধ্যমে। তার বইটি লাতিন ভাষায় অনুবাদ হয়ে যাওয়ার পর বইটির নাম দাঁড়ায় প্রথম ‘অ্যালগরিতমি’। আর এই শব্দটিই অ্যালগরিদম শব্দের উৎস।

বীজগণিতের জন্যও আমাদের খাওয়ারিজমিকে ধন্যবাদ দিতে হয়। পশ্চিমে তার বই রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেয়। কীভাবে কঠিন কঠিন গাণিতিক সমস্যাকে খ-িত করে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সমাধান করা যায়, তা অনুধাবন করতে পারে পশ্চিমারা। মধ্যযুগীয় লাতিন অঞ্চলে অ্যালগরিদমকে শুধু দশমিক সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ১৩ শতকের দিকে অ্যালগরিদম ইংরেজি শব্দ হিসেবে ব্যবহার হতে শুরু করে। তখন ইংলিশ কবি জিওফ্রে চসার এই শব্দটি ব্যবহার করেন।

২০ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটিশ গণিতজ্ঞ ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যালান টুরিং বের করলেন কীভাবে অ্যালগরিদমের তত্ত্ব একটি মেশিনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করে জটিলতর গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা যায়। আর ওই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই মূলত কম্পিউটার যুগের সূচনা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি অ্যালগরিদম ব্যবহার করে বোম্বে নামের একটি মেশিন তৈরি করেন, যা জার্মান এনিগমা কোড ভাঙতে সহায়তা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত