যারা দিনের ভোট রাতে করে তাদের মুখে বড় কথা মানায় না: সেলিমা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ০৫:৩৩ পিএম

খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করা প্রসঙ্গে বিএনপির ‘সাহস’ নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করে আনব। কিন্তু আপনাদের মুখে বড় কথা মানায় না। কারণ আপনারা নির্বাচন করেন নাই। যদি আপনাদের সাহস থাকত, তাহলে আপনারা ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নির্বাচন করতেন না। আপনাদের জনগণের ওপর আস্থা থাকলে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন করতেন। সেটা করবেন না কারণ আপনারা জানেন জনগণের কাছ থেকে আপনারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন’।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ছাত্র মিশন আয়োজিত সংগঠনটির ২০১৯ সালের কাউন্সিল উপলক্ষে এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আজ অনেক কথা বলছেন। অথচ বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছেন আপনারা। সে কারণে আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। দুই বছরের শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত এর হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না’।

তিনি বলেন, আজ শিশুরা পর্যন্ত নিরাপদ নয়। স্কুলের বাচ্চারা মাঠে খেলতে গেলে সেই বাবা-মা জানে না তার মেয়ে আর ঘরে ফিরে আসবে কি না। কেন এটা হচ্ছে, কারণ এখন দেশে কোনো বিচার নাই, কোনো বিচারব্যবস্থা নাই, আজ সম্পূর্ণ বিচারব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কোনো জাজ আজ নিরপেক্ষভাবে রায় দিতে পারছেন না’।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলির ঘটনায় সম্প্রতি দেওয়া রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সেলিমা বলেন, ‘পাবনায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে এটি সম্পূর্ণ হাস্যকর। ২৫ বছর আগের ঘটনা, যে ঘটনায় কেউ আহত হয়নি, কারও গায়ে একটু আঁচড় পর্যন্ত লাগেনি- অথচ সেখানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে’। খালেদা জিয়াকে ‘বিনা চিকিৎসায়’ সরকার মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে বিএনপি’র এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘তিনি অসুস্থ সেই অসুস্থ অবস্থায় তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ তারা বেগম জিয়াকে ভয় পায়, তারা জানে যদি বেগম জিয়া বাইরে থাকেন সমগ্র দেশের জনগণ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে মানুষের ঢল নামবে বাংলাদেশে’।

তিনি বলেন, ‘সরকার ছাত্রসমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে, সে জন্য আমরা আজ সমগ্র বাংলাদেশে দেখতে পাই এক ভয়ংকর চিত্র। ২০ থেকে ২৫ বছরের ছেলেরা আজকে বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত হয়ে পড়েছে। আজ বরগুনায় ০০৭ নামে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে এদের তৈরি করেছে কারা? এদের পেছনে রয়েছে বড় বড় রাজনৈতিক শক্তিধর ব্যক্তি।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মো. মিলনের সভাপতিত্বে কাউন্সিলে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত