মুছে যাচ্ছে ঝিলটুলী ঝিলের শেষ চিহ্নটুকু

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ১১:৪৩ পিএম

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী ঝিলটুলী ঝিলের শেষ অংশটুকু ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। এক সপ্তাহের বেশি ওই ঝিলের অনাথের আচাড়ের মোড় এলাকায় মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রাকে মাটি এনে ওই ঝিলে ফেলা হচ্ছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ঝিলটি ফরিদপুর খালের বাদামতলি সেতুর কাছ থেকে শুরু হয়ে টাউন থিয়েটারের পূর্ব দিক দিয়ে অম্বিকা হলের পাশে অনাথের আচাড়ের মোড় হয়ে দক্ষিণে ঢোল সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে। ওই ঝিলের উত্তর দিকে টাউন থিয়েটার থেকে অম্বিকা হল পর্যন্ত অংশ স্থায়ীভাবে ভরাট করে ১৯৭৯ সালে ফরিদপুর পৌরসভা নির্মাণ করে দ্বিতল ভবনবিশিষ্ট ‘সুপার মার্কেট’। সম্প্রতি দ্বিতল সুপার মার্কেটটি ভেঙে ১০তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ওই ঝিলের জায়গা ভরাট করে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল, বিএমএ ভবন, ডিপ্লোমা প্রকৌশল সমিতি, চৌরঙ্গী হোটেল, সুফি ক্লাব পাঠাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হয়েছে।

ওই ঝিলেরই দক্ষিণ অংশে ফরিদপুর মডেল প্রাইমারি স্কুল থেকে অনাথের আচাড়ের দোকানের মোড় পর্যন্ত অন্তত ৫০০ মিটার অংশ এত দিন ঝিল হিসেবেই ছিল। গত ১ জুন থেকে ঝিলের অনাথের আচাড়ের মোড় এলাকার অংশ ভরাটকাজ শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্যোগে ঝিলের এ অংশটুকু ভরাট করা হচ্ছে। এ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের প্রতিনিধি গোলাম মনসুর ওরফে নান্নু জানান, গত ১ জুন থেকে ভরাটকাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষ এটি ভরাট করছে।

ঝিলের অংশ ভরাটের কথা স্বীকার করে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ আলী বলেন, ঝিলের একটি অংশের মালিক রাজেন্দ্র কলেজ। ১৯৫৫-৫৬ সালে নিলামের মাধ্যমে ওই জায়গার মালিক হয় কলেজটি। তিনি আরও বলেন, ঝিলের পাড়ে নতুন একটি ছাত্রীনিবাস করা হয়েছে। ওই ছাত্রীনিবাসের সীমানাপ্রাচীর দেওয়ার জন্য ঝিলের অংশটি ভরাট করা প্রয়োজন।

ফরিদপুর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝিলটুলীর ওই খালটির মালিকানা সরকারের। স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি খালটি লিজ নেয়।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহতাব আলী বলেন, ‘ওই ঝিলটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে ছিল। এখন শুনছি ঝিলটির মালিকানা রাজেন্দ্র কলেজসহ বিভিন্ন ব্যক্তি। ফরিদপুর শহরের বৃষ্টির পানি ওই ঝিল দিয়ে অপসারিত হয়। ঝিলটি ভরাট করলে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে;’ তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ওই ঝিলে পানিপ্রবাহের ধারা অক্ষুণœ রেখে কাজ করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। ৭ জুলাই এ ব্যাপারে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে।

এ বিষয়ে জানতে ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. লুৎফর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত