তীব্র পানি সংকট নিরসনে ২৫ লাখ লিটার পানি নিয়ে শুক্রবার একটি বিশেষ ট্রেন যায় চেন্নাইয়ে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এই পানি একেবারেই অপ্রতুল বলা চলে। কারণ তামিলনাড়ুর শহরটির চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন।
এনডিটিভি জানায়, শুক্রবার ৫০ ওয়াগন বিশিষ্ট একটি ট্রেন তামিলনাড়ু থেকে ২৫ লাখ লিটার পানি নিয়ে যায় চেন্নাইয়ে। কিন্তু সংকট মোকাবিলায় তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি এই পানি।
বর্তমানে চেন্নাইয়ের পানি কষ্ট মেটাতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন। শহরের বাইরে চারটি বড় জলাশয় থেকে পাওয়া যেত প্রয়োজনের ৪০ শতাংশ পানি। কিন্তু সে গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
শহরের বিভিন্ন জায়গায় বেসরকারি উদ্যোগে পানি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে সেই পানি।
গত বছরের অনাবৃষ্টি এবং এ বছর বর্ষা মৌসুম এখনো শুরু না হওয়ায় ভারতের প্রায় এক চতুর্থাংশ এলাকাকেই খরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
পানির স্তর অনেক গভীরে চলে যাওয়ায় পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে অঞ্চলটিতে। হাসপাতালগুলো পর্যন্ত এ সংকটে অচল হয়ে যাওয়ার মুখে।
এদিকে তামিলনাড়ু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ৪টি করে পানিবাহী বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চেন্নাই থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মেত্তুর জলাধার থেকে দৈনিক ১০ লাখ লিটার পানি আনা হবে।
তবে এই বিশেষ ট্রেনগুলোর পানি সরবরাহ সংকট নিরসন করতে পারবে না, এমনটা মনে করছেন রাজ্য কর্মকর্তারা।
রাজ্যের পানি সরবরাহ দপ্তরের সচিব হরমন্দর সিং বলেন, “এই পানিবাহী ট্রেনের কারণে পানির সরবরাহ সামান্য বাড়তে পারে এই যা।”
তিনি বলেন, “তামিলনাড়ুতে ছয় মাস বৃষ্টি হয়নি। এর ফলে পানির ঘাটতি হয়েছে। আমরা পানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কারগুলোর সংখ্যা দ্বিগুণ করেছি। এখন ওই ট্যাঙ্কারগুলো প্রতিদিন শহর জুড়ে ১২ হাজার ট্রিপ দিচ্ছে। আমরা সবাইকে পানি দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।”
প্রতিদিন ওই ৪টি পানি সরবরাহকারী ট্রেনের প্রতিদিনের ভাড়া হিসেবে তামিলনাড়ু সরকার ভারতীয় রেলকে ৩২ লাখ রুপি করে দিচ্ছে।
