ক্ষমতাবানরা শ্বশুরকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে: মিন্নি

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০৫:০২ পিএম

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত ০০৭ গ্রুপ যারা সৃষ্টি করেছেন তারা ‘ক্ষমতাবান ও অর্থশালী’ উল্লেখ করে তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি বলেছেন, তারা আমার শ্বশুরকে চাপে রেখে বিচার অন্য দিকে প্রবাহিত করতে চাইছে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি খুনিদের আড়াল করতেই আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

রবিবার দুপুর ১টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা মাইঠা এলাকায় বাবার বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন মিন্নি।

এ সময় তিনি তার শ্বশুরের করা অভিযোগ ‘মিথ্যা’, ‘বানোয়াট’ ও ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেন, ২৬ জুন আমার চোখের সামনে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আমি সন্ত্রাসীদের বারবার প্রতিহত করার চেষ্টা করেও আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি। বারবার সবার কাছে সহযোগিতা চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এরপর ২৭ জুন আমার শ্বশুর বরগুনা সদর থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলায় আমাকে কোথাও অভিযুক্ত না করে ১ নম্বর সাক্ষী বানানো হয়। এখন হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। 

সিসিটিভি ফুটেজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে আমার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে কিন্তু আসল ঘটনা জানার কেউ চেষ্টাও করেননি। আমি সেদিন কলেজে গিয়েছিলাম। রিফাত গিয়ে আমাকে বলে বাবা এসেছে তোমাকে ডাকছে, আমি এসে দেখি রিফাতের বাবা মানে আমার শ্বশুর সেখানে নেই। তাই আমি পুনরায় কলেজের ভেতরে ঢুকে যেতে চাইছিলাম, এ সময় রিফাত আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আবদার করে। এর মধ্যেই রিশান ফরাজী, রিফাত ফরাজীসহ আরো কয়েকজন এসে ওকে জাপটে ধরে নিয়ে যায়।

মিন্নি বলেন, আমি ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যাই । হাঁটতে হাঁটতে তাদের পেছনে যাই। যখন দেখি রিফাতকে মারধর শুরু করেছে আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি তাকে বাঁচাতে কিন্তু সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে শেষ রক্ষা করতে পারিনি।

 

তিনি বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বরগুনার পুলিশ সুপার ও প্রশাসনকে আমি ধন্যবাদ জানাই আমার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করে বলেন, যেহেতু আমি একজন স্বামী হারা, অসহায় নারী, আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করছে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২ জুলাই ভোররাতে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিনজনসহ সাত আসামি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

এ ঘটনায় বর্তমানে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। তারা চেহারা লুকানোরও কোনো চেষ্টা করেনি।

গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত