তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শেখ হাসিনার হাতে দেশ নিরাপদ। তার হাত থেকে যদি অন্য কারো হাতে যায় তাহলে দেশ আবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে। দেশে আবার খুন-খারাবি বাড়বে, দেশ পথ হারাবে। তাই দেশের যে অগ্রগতি এই অগ্রগতিকে ধরে রাখতে হলে আজকের তরুণরা যে স্বপ্ন দেখেন সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া একদিনও আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে চাই না। অব্যাহতভাবে জনগণের সমর্থন পেতে হলে সবাইকে জনগণের পাশে থাকতে হবে। শেখ হাসিনা সব সময় জনগণের পাশে ছিলেন বিধায় জনগণ ও তার পাশে আছে।
বুধবার দুপুরে গণতন্ত্র বন্দী দিবস পালন উপলক্ষে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব বলেন।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুখের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলহাজ নঈম উদ্দিন চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সিএনসি, ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, মোসলেম উদ্দিন, আবুল কাশেম প্রমুখ।
হাছান মাহমুদ বলেন, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে নয় দেশের গণতন্ত্রকে বন্দী করা হয়েছিল। দেশে যখন ন্যায়ের নামে অন্যায় করা হচ্ছিল তখন মানুষের অধিকার আদায়ে এসবের প্রতিবাদ করেছিল শেখ হাসিনা। মানুষের অধিকার হরণের জন্য মূলত তখন তাকে আটক করা হয়। তাই ১৬ জুলাই শেখ হাসিনার বন্দী দিবস নয় গণতন্ত্রের বন্দী দিবস পালন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সে সময়ের সেনাসমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা যদি সত্যিকারে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ নিত তাহলে প্রথমে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করার কথা ছিল। কিন্তু সেটি তারা করেননি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির নেতাদের যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তখন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে যাতে আগের মতো চেয়ার ছোড়াছুড়ি না করেন সেই অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা এখন বিভাগীয় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন অন্তত সেখানে চেয়ার ছোড়াছুড়ি না করে নিজেদের সমাবেশ সুশৃঙ্খলভাবে করার যোগ্যতা অর্জন করবেন। আশা করি এবার নিজেরা নিজেদের সমাবেশ পণ্ড করবেন না।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। দলের মধ্যে অনেক সুযোগ সন্ধানী ও অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। সুযোগসন্ধানীদের আমাদের দরকার নেই।
তিনি বলেন, সবার দল করার অধিকার থাকলেও পদ পাওয়ার অধিকার নেই। দলের পদ দিতে হবে বেছে বেছে।
মন্ত্রী বলেন, ৭৪ ও ৭৫ সালের আগে কেউ ভাবেনি বঙ্গবন্ধুকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে কেউ। বর্তমানে দল পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছে বিধায় আমাদের সব সময় এভাবে যাবে তা ভাবলে চলবে না। সে জন্য দলের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতির আদর্শগত পার্থক্য রয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি হচ্ছে ব্রত। আওয়ামী লীগ জনগণের উন্নয়নের জন্য ও দেশের জন্য ব্রত নিয়ে রাজনীতি করে। বিএনপি মনে করে রাজনীতি হচ্ছে হালুয়া-রুটির জন্য। জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন ক্ষমতার হালুয়া রুটি বিলিয়ে দল গঠন করেছিলেন। হালুয়া-রুটি খেয়ে তখন যারা বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন তারা এখন বিএনপির বড় বড় নেতা। বিএনপির সঙ্গে আমাদের পার্থক্য সেখানেই।
