শেরপুরে কমতে শুরু করেছে পানি, ভেসে উঠছে ক্ষত

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ০৬:৪৭ পিএম

শেরপুরের পাঁচ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তাঘাটের বেশ ক্ষতি হয়েছে।

পানি নামতে শুরু করার পর দেখা যায়- টানা বৃষ্টিতে জেলা সদরসহ নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে কাঁচা পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচা ঘরবাড়ি, কালভার্ট ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের প্রবল তোড়ে মহারশি নদীর তীরবর্তী বাঁধ ও উপজেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী দিঘিরপাড় এলাকার সড়কে ১৫০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। এতে এই সড়কে এলাকাবাসীর যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। একই উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী বাঁধ ভেঙে হাতীবান্ধা ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় দিঘিরপাড়, সুরিহারা, কালিনগর, সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর, বালিয়াগাঁও, কোনাগাঁও ও জরাকুড়া গ্রামের গ্রামীণ সড়কগুলো এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

সোমেশ্বরী নদীর পানির প্রবল তোড়ে নয়াপাড়া, দাড়িয়ারপাড়, কান্দুলী, মাঝাপাড়া ও বাগেরভিটা গ্রামের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ধানশাইল-বাগেরভিটা-ভটপুর সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়কের অধিকাংশ স্থান ভেঙে গেছে এবং পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাগেরভিটা এলাকায় সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত ১০০ ফুট দীর্ঘ সেতুটির দুপাশের মাটি সরে গেছে। ফলে সেতুটি এখন হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে এবং এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

 

উপজেলার মরিচপুরান এলাকায় দুটি স্থানে ভোগাই নদীর সাড়ে ৬০০ ফুট বাঁধ ভেঙে সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে সড়ক ডুবে গেছে। এবং বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করায় গত তিন দিন যাবৎ সাত গ্রামের মানুষ দারুণ কষ্টের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় আকবর হোসেন, মতিউর রহমান ও আব্দুর রহমান বলেন, নালিতাবাড়ীর উত্তর কুন্নগন রাজারখালপাড় এলাকায় ভোগাই নদীর ২০০ ফুট বাঁধ ও ফকিরপাড়া চেয়ারম্যানের বাড়ির পেছনে ভোগাই নদীর সাড়ে ৪০০ ফুট বাঁধ ভেঙে গেছে।  যাতায়াতের সড়কে পানি থাকায় এলাকাবাসী ঠিকমতো চলাচল করতে পারছেন না।

মরিচপুরান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার শফিক আহমেদ বলেন, দুটি অংশে সাড়ে ৬০০ ফুট ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। এই অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় সড়কসহ সাতটি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানি কমলেই বাঁধ সংস্কারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা মৃগী নদীর পানির তীব্র স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে বাছুর আলগা, দক্ষিণপাড়া, চকবড়ইগাছি গ্রামের কয়েকটি বাড়ি ঘরসহ বেশ কিছু আবাদি জমি ও চলাচলের রাস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেকেই নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয় কবির মিয়া ও বাচ্চু শেখ জানান, অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে নদী ঘাট সংলগ্ন পাকা রাস্তার নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ঝুঁকিতে যাতায়াত করছে এলাকাবাসী।

নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত