যমুনার পানি বৃদ্ধি, জামালপুরে ভেঙে গেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৭:১৬ পিএম

যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাদারগঞ্জে ভেঙে গেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ।

রেল লাইনের বিভিন্ন স্থানে পানি ওঠায় জামালপুর-সরিষাবাড়ী-বঙ্গবন্ধু সেতু লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে জামালপুরের ৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে জামালপুরের সাত উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৯টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এতে করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৫ লক্ষাধিক মানুষ।

রেল লাইনে পানি ওঠায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জামালপুর-সরিষাবাড়ী-বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত ট্রেন চলাচল।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় মাদারগঞ্জের নাদাগাড়িতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের ১৬০ মিটার ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৩০টি গ্রাম।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে মেলান্দহের হাতিজা এলাকায় বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গেছে ৩০টি বেশি বসতঘর। পানি ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে ৯৮৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান। তলিয়ে গেছে অন্তত ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও গো-খাদ্যের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। সড়কে পানি উঠে পড়ায় ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পৌরসভাসহ ৯০ ভাগ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এখন পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকায় ৩৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় নিয়েছে ৭ হাজার ৫৪৪ জন।

জামালপুর জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা নায়েব আলী জানান, জামালপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত এলাকার জন্য ৮৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৪ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বন্যার্তদের মাঝে প্রতিদিন রুটি ও খিচুড়ি তৈরি করে বিতরণ করা হচ্ছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত