চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকায় মেঘনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীগর্ভে বসতবাড়ি ও জমিজমা বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। ভাঙনরোধে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে চরভৈরবী এলাকা। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙনে ফরাজী বাড়ি, গাজী বাড়ি, মাস্টার বাড়ি, হাওলাদার বাড়ি, বেপারি বাড়িসহ পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকির মুখে।
চরভৈরবী, আমতলী, গাজীনগর, হাইমচরের বিভিন্ন স্থানে চার কিলোমিটার এলাকায় ব্লক দেবে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং রক্ষাবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষায় পানি বাড়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। এছাড়া এলাকার ফসলি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মেঘনার ভাঙনে হাইমচর উপজেলা রক্ষাবাঁধটিও রয়েছে ঝুঁকিতে।
চরভৈরবী এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘এ পর্যন্ত মেঘনা নদী ৬ বার ভেঙেছে আমাদের বসতঘর। এখন আমি পরিবারসহ অন্যের জায়গায় বাস করি। এবারও যদি নদী ভাঙে, তবে মাথা গোঁজার আর কোনো জায়গা থাকবে না। আমাদের দাবি, নদী ভাঙনরোধে সরকার যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’
আমতলী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী ও মো. মানিক মিয়া বলেন, বর্ষায় নদীর পানি বেড়েছে। এতে স্রোতের গতি বৃদ্ধি পেয়ে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এখনই ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হবে।
হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী জানান, ‘হাইমচর উপজেলা ভাঙনকবলিত এলাকা। এই আসনের সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি মেঘনার ভাঙনরোধে হাইমচর রক্ষাবাঁধ করেছেন। কিন্তু এখন আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হাইমচর উপজেলাকে মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। নয়তো মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে হাইমচর পাওয়া যাবে না।’
চাঁদপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
