মাদারীপুর শহরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা্র অভিযোগে ইজিবাইক চালকের সাজ্জাদ হোসেন খানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার সকালে র্যাব-৮ বরিশাল ক্যাম্পের সিও এডিশনাল ডিআইজি আতিকা ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব খাগদী এলাকার একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী দীপ্তি আক্তারকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছিল। ডোবায় ফেলে রাখায় তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। শরীরে ছিল না কোন পোশাক। গত ১১ জুলাই শনিবার বিকেলে এলাকাবাসী লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে অজ্ঞাতনামা হিসেবে ওই কিশোরীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরে ওই কিশোরীর জন্মগতভাবে একটি বাঁকা আঙুল ও শিশু বয়সে কেটে যাওয়া কান দেখে শনাক্ত হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার চরনাচনা গ্রামের মজিবর ফকিরের মেয়ে দীপ্তি আক্তারকে।
ওই কিশোরী গত ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার মাদারীপুর শহরের মাস্টার কলোনি এলাকায় তার বোনের বাসা থেকে বের বাড়ি সদর উপজেলার চরনাচনা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল।
ঘটনার পর থেকেই মামলাটি স্পর্শকাতর হিসেবে র্যাব তদন্ত শুরু করে। ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৮ বরিশাল ক্যাম্পের সিও এডিশনাল ডিআইজি আতিকা ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। শহরের ইটেরপুল থেকে চরমুগরিয়ার উদ্দেশ্যে একটি ইজিবাইকে ওঠে দীপ্তি আক্তার। ইজিবাইকে সে একমাত্র যাত্রী হিসেবে ছিল। ইজিবাইক চালক সাজ্জাদ হোসেন খান চরমুগরিয়ার দিকে না গিয়ে তার বসতবাড়ির রাস্তা হয়ে যায় এবং বাসায় কাজ আছে বলে দীপ্তিকে জানায়। তার স্ত্রী ও সন্তান শ্বশুর বাড়িতে থাকায় বাসা খালি ছিল। এ সময় বাসার সামনে ইজিবাইক থামিয়ে তার মুখ চেপে ধরে। এতে দীপ্তি অজ্ঞাত হয়ে গেলে সেই অবস্থাতেই ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।
এক পর্যায়ে দীপ্তি মারা গেলে তার পোশাক খুলে ফেলে ঘরে থাকা বৈদ্যুতিক তার দিয়ে ইটের সঙ্গে বেঁধে পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেয়। দুইদিন পর লাশটি ভেসে উঠলে উৎসুক জনতার মতো হত্যাকারী সাজ্জাদ হোসেন খানও ওই লাশটি দেখতে যায়।
র্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম জানান, দীপ্তির হত্যাকারী সাজ্জাদ হোসেন খান ১৯৯২ সালে সাত বছর বয়সী এক শিশুর কানের গহনা চুরি করার সময় তাকে গলাটিপে হত্যা করার অপরাধে ১৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করে ২০১১ সালে মুক্তি পায়। অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন খানকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ মাদারীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
