প্রাইভেট বা কোচিং না করে শুধুমাত্র নিয়মিত ক্লাস করেই ভালো ফলাফলের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রুবেল হোসেন। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় নাটোরের বাগাতিপাড়ার তকিনগর আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনি জিপিএ- ৫ পেয়েছেন।
একবেলা দিনমজুরের কাজ করে আর অন্যবেলা ক্লাস করে এ ফল করেছেন। কিন্তু ভালো ফলাফল করেও শুধুমাত্র অর্থাভাবের কারণে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন রুবেল। শনিবার উপজেলার তকিনগর মাঠে হলুদ ক্ষেতে কাজ করার সময় কথা হয় তার সঙ্গে।
রুবেল জানালেন, তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার কামারহাটী গ্রামে। তিনি নানা আবুল কালামের বাড়ি বাগাতিপাড়ার তকিনগর গ্রামে থেকে পড়ালেখা করেন। অভাব-অনটনের সংসারে সকালে ক্লাস করে বিকেলে একবেলা মাঠে শ্রমিকের কাজ করে পড়া-লেখা করেছেন।
সেই জমানো টাকা এবং শিক্ষকদের সহায়তায় কলেজ থেকে উপবৃত্তির টাকা দিয়ে বইপত্র, খাতা-কলম কিনতেন রুবেল। বিদ্যুৎহীন বাড়িতে হারিকেনের আলোয় পড়ালেখা করেছেন।
একই প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি শাখার কম্পিউটার ট্রেডে এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ- ৫ পেয়েছিলেন। এবার কারিগরি বিএম শাখার হিসাবরক্ষণ ট্রেড থেকে জিপিএ- ৫ পেলেন।
তার ইচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে অনার্স পড়ার। কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তির জন্য কোনো কোচিং করতে পারেননি তিনি।
এদিকে দিনমজুর বাবা এনামুল হকের একার পক্ষে সংসারের খরচের পাশাপাশি ছোট বোন ইমা খাতুন ও রুবেলের পড়া-লেখার খরচ জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব।
তার মা সাবিনা বেগমের শঙ্কা দারিদ্রতার কারণেই হয়তো বা নষ্ট হয়ে যাবে তার ছেলে রুবেলের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা।
এদিকে কলেজের হিসাবরক্ষণ ট্রেডের শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, রুবেল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। সুযোগ পেলে জীবনে অনেক বড় কিছু করতে পারবে সে।
