তিন দিন অতিবাহিত হলেও সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার-সালেহপুর সেতু থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া ট্যাক্সিক্যাব ও তার চালকের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজ চালকের পরিবারের লোকজন মরদেহের অপেক্ষায় ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। তাদের আহাজারি এবং কান্নায় উত্তেজিত হয়ে পড়ে স্থানীয়রা। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের পাশাপাশি তারাও নিজ উদ্যোগে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় মঙ্গলবার থেকে নৌবাহিনীর ডুবুরিরা গাড়িটি এবং চালকে উদ্ধারের জন্য দুটি স্ক্যানার দিয়ে তল্লাশি শুরু করেছেন।
এর আগে গত রবিবার রাত ৮ টার দিকে সাভার থেকে ঢাকাগামী একটি হলুদ রঙের ট্যাক্সিক্যাব আমিনবাজার-সালেহপুর ব্রিজ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এ সময় ট্যাক্সিক্যাবটি দ্রুত গতিতে ছিটকে গিয়ে তুরাগ নদে পড়ে যায়। সেতুর কাছেই মহাসড়কের বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর পরই ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ও ৭ সদস্যের একদল ডুবুরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। প্রথমে সনাতন পদ্ধতিতে এ্যাঙ্কর ফেলে গাড়ির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালান তারা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কোন ফল না পাওয়ায় নৌবাহিনীর ১৩ সদস্যদের একটি ডুবুরি দল অক্সিজেন নিয়ে পানির তলদেশে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে থাকে। টানা চেষ্টা চালিয়ে গাড়িটির সন্ধান দিতে না পারায় উত্তেজিত স্থানীয় জনতা বাঁশ ও নৌকা নিয়ে প্রচণ্ড স্রোতের মধ্যেই নিখোঁজ গাড়ি ও চালকের সন্ধানে নদীতে নেমে যায়।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুর থেকে গাড়িটি খুঁজে পেতে নৌবাহিনীর লে. সিরাজুস সালেকিনের নেতৃত্বে সাইট টোনার স্ক্যানার মেশিন দিয়ে নদীর প্রায় ১ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে স্ক্যান করে গাড়ি ও তার চালকের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
জানতে চাইলে নৌবাহিনীর চিফ পেডি অফিসার ডুবুরি কবির হোসেন জানান, মঙ্গলবার দুপুর ২ টা থেকে সাইট স্ক্যানার টোনার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানেই গাড়ির অবস্থান পাওয়া যাবে, সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিত করে ডুবুরি নামানো হবে। আপাতত এক বর্গ কিলোমিটার এলাকায় সন্ধান শুরু করা হলেও প্রয়োজনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আয়তন বাড়ানো হবে। তবে আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা আপনাদেরকে ভালো কোন সংবাদ দিতে পারব।
অন্যদিকে প্রাথমিকভাবে চালক ও গাড়িটির মালিকানা পরিচয় পাওয়া গেছে। আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের এক্সিও ২০১২ মডেলের ডুবে যাওয়া গাড়িটির চালকের নাম জিয়াউর রহমান। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে। নিশ্চিত দুঃসংবাদ জেনেও, মরদেহ পেতে তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে তুরাগ পাড়ে অপেক্ষমাণ রয়েছেন চালক জিয়াউরের পরিবার।
নিখোঁজের ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জিয়াউর রহমানের ছোট দুটি মেয়ে আছে। ঘটনার পর থেকে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, এখন একটাই আশা, অন্তত ভাইয়ের লাশটা যেন দ্রুত সময়ে ফিরে পাই।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মোস্তফা মহাসিন বলেন, তুরাগ নদীতে পড়ে যাওয়া ট্যাক্সি ক্যাবটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য জায়গা গুলোতে ডুবুরিরা সন্ধান করে যাচ্ছে।
