গণপিটুনি ও গোরক্ষকদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হলেন নুসরাত

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৯, ১১:১৫ পিএম

ভারতে চলছে ধর্মীয় উসকানিতে হাঙ্গামা। ‘জয় শ্রীরাম’না বললেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে মুসলিমদের ওপর। শুধু তাই নয়, গো রক্ষকরাও গরুর মাংস খাওয়া ও তা জবাই করার ওপর আরোপ করেছে বিধিনিষেধ। কেউ এর হেরফের করলেই প্রকাশে আক্রমণ চালানো হচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে গণপিটুনি । এসব নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দেশটির বুদ্ধিজীবীরা। কেউ কেউ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠিও দিয়েছেন।

এবার গণপিটুনি ও গো রক্ষকদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হলেন তারকা সাংসদ নুসরাত জাহান। দেশের বুদ্ধিজীবীদের প্রতিবাদকে টুইটারে সমর্থন জানালেন তৃণমূল সাংসদ নুসরাত। শ্রীরামচন্দ্রের নাম জড়ানো কোনো ধর্মীয় ধ্বনি কী ভাবে ‘রণহুংকার’-এ পরিণত হচ্ছে ও গণপিটুনির মতো ঘটনাকে ডেকে আনছে সে বিষয়ে টুইটারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নুসরাত।

তার মতে, এই ধরনের আচরণ দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে, যা কখনোই উচিত নয়। টুইটে কবি ইকবালের ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’ কবিতার অংশবিশেষ তুলে ধরে ভারতবর্ষের জাতিগত বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের কথা বলেছেন তিনি। টুইটার পোস্টে নুসরাত লিখছেন, ‘‘গোমাংস খাওয়া ও গরু পাচারের নামে গুজব ছড়িয়ে সারা দেশেই গো-রক্ষকরা নাগরিকদের ওপর নানা ভাবে আক্রমণ চালাচ্ছেন। কিন্তু এই সব ঘটনা নিয়ে সরকার নীরব। কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছে না, আমি এতে ব্যথিত।’

 এমনকি, গত বছর ১৭ জুলাই গণপিটুনি প্রতিরোধে সরকারের ভূমিকার প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মনে করিয়ে তিনি আক্ষেপের স্বরে লিখেছেন ‘পর সরকার চুপ হ্যায়!’

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, শ্যাম বেনেগাল, অনুরাগ কাশ্যপ-সহ ৪৯ জন বিদ্বজ্জনের লেখা খোলা চিঠিকে সমর্থন জানিয়ে এই পোস্টে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের একজন তরুণ সাংসদ হিসেবে গণপিটুনির মতো অপরাধ রুখতে কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দেশের সরকার ও আইনপ্রণেতাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ইকবালের কবিতার বক্তব্যের সুরকে তুলে ধরে মানবতাকেই প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়ে নুসরাত লিখেছেন, ‘কেবলমাত্র গরুর নাম করে, ভগবানের নাম করে কারও দাঁড়ি আছে বলে বা টুপি আছে বলে এই ধরনের খুনখারাবি অবিলম্বে বন্ধ হোক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত