সরকারের চূড়ান্ত অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই ডেঙ্গু চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ, মন্ত্রিসভা ও সরকার এ বিষয়টা খুব খাটো করে দেখেছে বলে রোগটি দ্রুত ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র, আল মামুন, ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েসসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বই ছিল এটা শুরুতেই দমন করা। যারা অসুস্থ তাদের সু চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এটা কোন গুজবের বিষয় নয়, বিএনপি কখনো গুজব দিয়ে রাজনীতি করে না। বিএনপি সব সময় সত্যের উপর ভিত্তি করে ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজনীতি করে বলে মন্তব্য করে তিনি ।
মির্জা ফখরুল ডেঙ্গু প্রসঙ্গে টেনে আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুরুতেই বলেছিলেন- যারা দায়িত্বে আছেন তারা কম কথা বলে কাজে মনোযোগ দেন। এ কথা তিনি শুরুতে বললেও পরে চাপে পরে এখন অন্য কথা বলছেন। বিএনপিও ওই কথাই বলে- কারও কথায় কান না দিয়ে সরকারকে কাজে মনোযোগী হওয়া উচিত।
গণপিটুনিতে হত্যা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়টি এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা দেশে-রাষ্ট্রে যখন আইনের শাসন থাকবে না, বিনা ভোটে নির্বাচিত সরকার নির্বাচিত হয়ে যখন বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করবে, জবাবদিহি থাকবে না, তখন এসব ঘটনা ঘটবে এটা তো স্বাভাবিক।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে কারারুদ্ধ থাকায় অসুস্থ হয়ে পরেছেন। তার জীবন বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। তার সু চিকিৎসা করছে না সরকার। তাই তার জামিন পাওয়াটা অধিকার। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে সুবিধাজনক স্থানে চিকিৎসার দেওয়ার জোর দাবি জানান মির্জা ফখরুল।
এর আগে নিজ বাসভবনে জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময় সভা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি শনিবার রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ বন্যা দুর্গত বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে রাতে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন। রোববার বিকেল ৩ টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
