স্ত্রীর পরিপূর্ণ মর্যাদার দাবি নিয়ে স্বামীর বাড়িতে এসে তিন দিন ধরে অনশন করছে এক তরুণী।
কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জালালিয়া গ্রামে মোবারক আলীর ছেলে দুবাই প্রবাসী ইয়াওর আলীর বাড়িতে স্ত্রীর দাবি নিয়ে রিমা আক্তার (২৭) নামের তরুণী শুক্রবার থেকে অনশন করছে।
অনশনরত মেয়ের অভিযোগ ও তাদের বিয়ের কাগজপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, নরসিংদী জেলার খালারচর ইউনিয়নের মানারা কান্দি গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের মেয়ে রিমা আক্তার এর সাথে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে একই কোম্পানিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে তারা দেশে আসেন। পরে ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই তারিখে নরসিংদিতে তাদের কোর্ট ম্যারেজ হয়। মাস দেড়েক মেয়ের এলাকায় ছেলে একটি বাসা ভাড়া রেখে দুজন ঘর সংসার করে আবার দুজনে বিদেশ পাড়ি জমায়। সেই থেকে মেয়ের রোজগারের প্রায় ১৪ লাখ টাকা তার কাছে রেখে স্ত্রীকে দেশে পাঠিয়ে দেয় স্বামী ইয়াওর আলী। স্বামী তাকে জানায় দেশে চলে যেতে পরিপূর্ণ মর্যাদা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ছেলের বাড়িতে উঠিয়ে নেবে। স্বামীর এমন বক্তব্যে রিমা দেশে ফেরে। পরে বারবার চেষ্টা করেও তার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।
পরে শুক্রবার দুপুর ২ টা থেকে এলাকায় এসে স্বামীর বাড়ির দরজায় স্ত্রীর পরিপূর্ণ মর্যাদা দেওয়ার জন্য অনশন শুরু করে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কয়েক দফা ছেলেপক্ষের সাথে মেয়ের বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য মাতব্বররা প্রাথমিক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
আলীনগর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য হায়দর আলী সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে প্রথম রাতে নিজে মেয়েটিকে রাখার ব্যবস্থা করি। তবে মেয়ে স্ত্রীর দাবি জানালেও ছেলে অস্বীকার করছে। সে কারণে মেয়েটিকে তার অভিভাবক নিয়ে আসতে বলা হলেও রাজি হচ্ছে না। এ অবস্থায় আর কোন সমাধা সম্ভব হয়নি। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মেয়েটি ছেলের বাড়িতে অবস্থান করছে বলে তিনি জানান।
অনশনরত রিমা আক্তার স্বামীর বাড়ির লোকজন তাকে বাড়ি থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি করেন। তবে অভিযোগ বিষয়ে ইয়াওর আলীকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে কয়েক দফা ফোন দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোন ধরনের অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
