‘বহুবার ট্রেনিং সুবিধা চেয়েছি, কিন্তু কিছুই পাইনি’

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৪৭ পিএম

‘তারপরও আশা তো আছেই… মিরাকল কিছু ঘটতে কতক্ষণ।’- এসএ গেমস নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে এভাবেই কথা বলতে হচ্ছে ২০১৬ আসরে সোনা জয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্তকে।

নিজের প্রতি আস্থা কিংবা আত্মবিশ্বাস, কোনোটাতেই ঘাটতি নেই এতটুকু। কিন্তু বাস্তবতার জমিতে কথা বলতে ভালোবাসেন, তাই মিথ্যে আশার ফানুস উড়াতে নারাজ এই তারকা। ডিসেম্বরে নেপালে অনুষ্ঠিত হতে চলা ১৩তম এসএ গেমস যে দেশের ভারোত্তোলকদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে সেটি তাই অবলীলায় বলে দিচ্ছেন মাবিয়া।

এসএ গেমস উপলক্ষে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ব্যবস্থাপনায় এরই মধ্যে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন ফেডারেশন। ১১ জন করে মেয়ে ও ছেলে ভারোত্তোলক নিয়ে শুরু হয়েছে গেল আসরে চারটি সোনার একটি উপহার দেওয়া ভালোত্তোলন ডিসিপ্লিনের ট্রেনিং। আপাতত দেশি কোচের অধীনে ট্রেনিং হলেও বিদেশি কোচ আনার গুঞ্জনও আছে চারপাশে।

তবে ছয় মাসের ট্রেনিংয়ে ভালো ফল করাটা চ্যালেঞ্জিংই। ২০১৬ সালে শিলং-গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত আসরে ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে সোনা জয়ের পর এই ট্রেনিং সুবিধার কথাই বারবার বলেছেন মাবিয়া। কিন্তু তাতে ভ্রু-ক্ষেপ করেনি কেউই। এখন তাই সে নিয়ে কথা বলতেই অনীহা মাবিয়ার। সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকেই বরং ভালোকিছুর পথ খুঁজছেন। নিজের শ্রেষ্ঠত্বটা অন্তত যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেই দিকেও রাখছেন দৃষ্টি।

এসএ গেমস প্রস্তুতি নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপচারিতায় মাবিয়ার কণ্ঠে আক্ষেপটা টের পাওয়া গেল ভালোভাবেই। স্বর্ণের কথা বলতে গিয়ে তাই বাস্তবতার কথা মনে করালেন আগে, ‘এই কয়েক দিনে গোল্ড মেডেল পাওয়া সম্ভব না। তারপরও আমরা আসলে সব সময়ই লিমিটেশনের মধ্যে থাকি। কোনো বারই ছয়-সাত মাসের বেশি ক্যাম্প পাই না। এর মধ্যে থেকেই সবাই সবার সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করবে। ভালো রেজাল্ট আশা সবাই করে। ইনশা আল্লাহ ভালো কিছুর জন্যই লড়ব। তবে ডে বাই ডে সবাই এগিয়েছে। আমরাই শুধু পিছিয়েছি। অন্যরা বিগত চার বছরে অনেক সামনে এগিয়েছে, যেটা আমরা করতে পারিনি।’

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হওয়া শেষ আসরের চেয়ে এবারের আসরকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে মাবিয়ার কাছে। তার ভাষায়, ‘এখন আমাদের কাছে প্রতিযোগিতাটা ২০১৬ সালে যেমন ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। তারপরও চেষ্টা করব...।’

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে যে প্রতিযোগীদের হারিয়ে সেরা হয়েছিলেন, তাদের খোঁজ রাখছেন তো মাবিয়া? খোঁজ রাখছেন, কিন্তু তাতে শুধু নিজের হতাশাই বাড়ে বলে জানান দেশ সেরা এই ভারোত্তোলক। ‘খোঁজ-খবর নিলে আসলে নিজের কাছেই লজ্জা লাগে। কারণ ২০১৫ সালে যার সঙ্গে খেলে আমি প্রথম আন্তর্জাতিক গোল্ড পাই, আজকে সে যে লিফট করে, ধরা যায় তার থেকে আমি ২০ থেকে ৩০ কেজি কম লিফট করি। এ সব খোঁজ নেওয়া শুধুই লজ্জার হয়ে দেখা দেয়।’

মাবিয়া বলে যান, ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছি। সেখানে ওদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। যা দেখলাম, দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলো অনেক এগিয়েছে। শুধু আমরাই পিছিয়েছি। তারপরও আশা আছে। মিরাকল ঘটতে কতক্ষণ…।’

এরপর গেল প্রায় চার বছরের বঞ্চনার কথা অকপটে বলে ফেলেন মাবিয়া, ‘আমি তো চেষ্টা করব আমার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য। কিন্তু আমার ধারাবাহিতা বজায় রাখার জন্য যেটা করা উচিত, সেটা আমার সঙ্গে কেউ করেনি। এই তিন-চার বছরে ফেডারেশনের কাছে বহুবার আমি একটা কথা বলেছি, বহুবার ট্রেনিং সুবিধা চেয়েছি। কিন্তু কিছুই পাইনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত