ডেঙ্গুর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিলেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। দেশজুড়ে আতংক তৈরি করা ডেঙ্গু রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন কবি নূরুল হুদা।
রোববার ফেসবুকে তিনি এক স্ট্যটাসে এ চিকিৎসার বিস্তারিত জানান।
কবি নূরুল হুদা সময় পেলে হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার। তিনি একুশেসহ স্বাধীনতা পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।
এ কবি বাংলা একাডেমি ও নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক।
তার স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো-
'আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের অনুরোধে উপরোক্ত বিষয়ে আমি আমার অভিজ্ঞতা জানাচ্ছি।
১. হোমিওপ্যাথিক প্রতিষেধক : রাস টক্স ২০০ (Rhus Tox 200 B.T./German) : বর্ষাকালে জলবাহিত তাবৎ রোগের প্রথম প্রতিষেধকও এই ওষুধ। ভালো হোমিওপ্যাথিক দোকান থেকে ১০ বা ২০ নম্বর বড়িতে ছোট এক শিশি কিনুন।
সেবন বিধি:
ক. সকালে দাঁত না মেজে পরিষ্কার পানি দিয়ে একবার ভালো করে কুলি করুন।
খ. তারপর ৫টি বড়ি সরাসরি শিশি থেকে মুখে নিন। দুএকটা বড়ি কম-বেশি হলে ক্ষতি নেই।
গ. তারপর কমপক্ষে আধ ঘন্টা মুখ বন্ধ রাখুন, কিছু খাবেন না। দাঁত মাজবেন এক ঘন্টা পরে।
ঘ. পর পর তিন দিন সকালে একইভাবে সেবন করুন।
ঙ. বাড়ির সব সদস্য (ছোট-বড়) সেবন করুন। পরিমাণ একই রকম।
চ. প্রথম তিন দিন সেবনের দেড় সপ্তাহ পর আবার তিনদিন সেবন করা যেতে পারে।
ছ. সুস্পষ্ট লক্ষণ ছাড়া আর কোনো ওষুধ প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
২. রোগীর চিকিৎসা : যাঁরা ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের চিকিৎসা হবে লক্ষণ অনুসারে। এ-ক্ষেত্রে লক্ষণ সংগ্রহ করে রাস টক্সের সঙ্গে যে-সব ওষুধ বিশেষভাবে আসতে পারে সেগুলো হলো :
ক. ব্রাইওনিয়া ২০০ বিটি/ জার্মান (পিপাসা, শরীরে ব্যথা নড়াচড়ায় বাড়ে)
খ. জেলসিমিয়াম ২০০ বিটি/ জার্মান ( রোগী নিস্তেজ, পিপাসাহীন ও ঘাড়সহ মাথা ব্যথা)
গ. ইউপোটেরিয়াম পারফো ২০০ বিটি/ জার্মান (হাড় ও জয়েন্টে প্রচণ্ড কামড়ানি ব্যথা থাকলে। কেউ কেউ এই ওষুধকে প্রতিষেক মনে করেন। তবে সুষ্পষ্ট লক্ষণ ছাড়া এই ওষুধ ব্যবহার করা যায় না। )
ঘ. মিলেফোলিয়াম ২০০ বিটি/ জার্মান (রক্তস্রাব শুরু হলে)
ঙ. কার্বো ভেজ ২০০ বিটি/ জার্মান (এই ওষুধে কমে যাওয়া প্লাটিলেট দ্রুত বাড়ে)
চ. আর্সেনিক অ্যালবাম ২০০ বিটি/ জার্মান (প্রচণ্ড অস্থিরতা, পিপাসা, মৃত্যুভয়)
ছ. ভিরেট্রাম অ্যালবাম ২০০ বিটি/ জার্মান (রোগীর শরীর অবশ ও ঠাণ্ডা হয়ে আসা, রোগীর অন্তিম অবস্থা)
জ. অন্য যে কোনো ওষুধ (লক্ষণ অনুসারে)
ঝ. আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শেই কেবল উপরে বর্ণিত ওষুধ দেয়া যাবে।
৩. বিশেষ পরামর্শ : সতর্কতা হিসেবে পায়ের পাতা থেকে হাঁটুর ওপর অবধি নারকেল তেল মালিশ করলে সেখানে এডিস মশা বসে না। শয়নকালে সারা শরীরেই নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। উপরন্তু মশারি ব্যবহারও অত্যাবশ্যক।
৪.সতর্কতা ও সুচিকিৎসায় এই ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ সম্ভব।
মুহম্মদ নূরুল হুদা
০৫.০৮.২০১৯'।
তার স্ট্যাটাসের নিচে কবি ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য আসাদ মান্নান বলেন, 'আমি চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে মনে আছে আমাকে উপরের ঔষধটি দিয়েছিলেন, এবং যথাসময়ে সুস্থ্য হয়ে যাই।'
