এশিয়ান র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা ইরানের সঙ্গে একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলার কথা চাউর হয়েছিল সম্প্রতি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও জানিয়েছিল ইরানের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। সে দেশের গণমাধ্যম জানিয়েছিল ৫ সেপ্টেম্বর দোহায় হতে পারে ম্যাচটি। শুরুতে ম্যাচ হওয়ার কথা জানালেও পরবর্তী সময়ে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ২০-এ থাকা ইরানের সঙ্গে খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বাফুফে। আর এই না খেলার সিদ্ধান্তটি খোদ দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র। ৩৯ বছর বয়সী এই কোচ মনে করেন, এশিয়ার এই পরাশক্তির সঙ্গে ম্যাচ খেলে আদতে কোনো লাভ হবে না তার শিষ্যদের।
‘ইরানের সঙ্গে না খেলার সিদ্ধান্তটি আমারই। এই ম্যাচটি খেলে তেমন লাভ হবে বলে আমার মনে হয়নি’ গতকাল ইংল্যান্ড থেকে ফোনে জেমি ডে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা খুব করে চাইছি আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো থেকে রেটিং পয়েন্ট বাড়াতে। এ অবস্থায় ইরানের সঙ্গে ম্যাচ মানে অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়া আর কিছুই প্রাপ্তির খাতায় যোগ হবে না।’ ইরানের চেয়ে বরং একটি পেশাদার ক্লাবের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন জেমি ডে।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্ব শুরু করবে বাংলাদেশ। আফগানিস্তান কোন মাঠে বাংলাদেশকে স্বাগত জানাবে সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জেমি নিজেও রয়েছেন সেটা জানার অপেক্ষায়। কারণ সেটা জেনেই তারা ঠিক করবে ওই ম্যাচের আগে মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশে ক্যাম্প করবে জাতীয় দল। কাতারের দোহায় করার কথা জানালেও হয়তো এই ক্যাম্পটি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হতে পারে, ইঙ্গিত দিলেন জেমি ডে, ‘আমরা চাইছি যেখানে ক্যাম্প করব সে দেশের একটি পেশাদার দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে। সেটা নিশ্চিত তখনই হবে যখন ফিফা জানাবে আফগানিস্তানের ভেন্যু হবে কোথায়। আফগানিস্তানের ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হতে পারে। সেটা হলে আমরা হয়তো সেখানেই একটি অল্প সময়ের জন্য ক্যাম্প করব।’ এর আগে অবশ্য ২৬ আগস্ট ঢাকায় শুরু হবে ক্যাম্প। জেমির ইচ্ছেতেই জাতীয় দলের ক্যাম্পটি একটু দেরিতে শুরু করছে বাফুফে। কোচ মনে করেন, দীর্ঘ লিগ খেলে খেলোয়াড়রা সবাই বেশ ক্লান্ত। তাই কিছুটা সময় বিশ্রাম তাদের প্রাপ্য। আর এই সময়টা ফুটবলের বাইরে পরিবারকে সময় দিলে তারা শুরুটা করতে পারবে নতুন করে। তাছাড়া আবাহনীর হয়ে খেলা জাতীয় দলের ফুটবলারদের ২১ ও ২৫ আগস্ট এএফসি কাপের দুটি ম্যাচ আছে। যদিও কোচ বলেছেন, এর মধ্যেই প্রাক-ক্যাম্প কর্মসূচি দিয়ে দেওয়া হয়েছে খেলোয়াড়দের, ‘দীর্ঘ মৌসুম শেষে খেলোয়াড়দের ১৪ দিন বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। এরপর আমরা ঢাকায় ক্যাম্প শুরু করব।’
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম পর্বের পর থেকেই ইংল্যান্ডে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন কোচ। ২১ আগস্ট ঢাকায় আবাহনী লিমিটেড এএফসি কাপের ইন্টার জোন সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে উত্তর কোরিয়ার দল এপ্রিল ২৫ এফসির। ওই ম্যাচটি মাঠে বসেই দেখবেন জেমি।
সরাসরি না দেখলেও কোচ লিগে তার শিষ্যদের পারফরম্যান্সের খোঁজ-খবর ভালোভাবেই নিয়েছেন। দলের দুই ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবন ও মতিন মিয়া লিগে গোলের মধ্যে থাকাটাকে বড় স্বস্তির বলছেন জেমি। জীবন আবাহনীর হয়ে লিগে করেছেন ১৭ গোল। আর মতিন মিয়ার নামের পাশে ১১ গোল। ‘তারা দুজনই ভালো ছন্দে ছিল ঘরোয়া লিগে। তবে জাতীয় দলে কিন্তু তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকবে আরও বেশি। আশা করছি ক্লাবের ফর্মটা জাতীয় দলে নিয়ে গিয়ে তারা আরও গোলের জন্য মুখিয়ে থাকবে।’ জীবন ও মতিন ছাড়াও মামুনুল ইসলাম, জামাল ভূঁইয়া, মাসুম মিয়া জনি, লিগের সেরা উদীয়মান খেতাব জেতা আরামবাগের মিডফিল্ডার রবিউল ইসলামের কথা উল্লেখ করেছেন কোচ, ‘তারা প্রত্যেকেই নিজেদের পজিশনে ভালো ফুটবল খেলেছে। মামুনুলের এখনো দেশকে অনেক কিছু দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। এখন তার ফিটনেসটা ধরে রাখাই মুখ্য। রবিউল আমার খুব পছন্দের খেলোয়াড়। ওর কাছ থেকে আমি চাইব ও আরও মনোযোগ দিয়ে শিখবে এবং নিজেকে পরিণত করবে।’
