ওয়াকারের ভুলে ২০০৩ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হার!

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০৬:২৩ পিএম

১৬ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো ২০০৩ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের ক্ষত শুকায় নি শোয়েব আখতারের। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে সেই ম্যাচে হার নিয়ে এত দিন পর প্রকাশ্যে কথা বললেন পাকিস্তানে সাবেক এই পেসার।

সেঞ্চুরিয়নে সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৬ উইকেটে হেরে যায় পাকিস্তান। ২৭৪ রানের পুঁজি নিয়ে ভারতকে আটকে রাখতে পারেনি দলটি। শচীন টেন্ডুলকারের ৯৮ রানে ভর করে ৪.২ ওভার হাতে রেখেই ম্যাচ নিজেদের করে ভারত।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা নতুন ভিডিওতে সেই হার নিয়েই কথা বলেছেন শোয়েব। সে ম্যাচে নিজে পুরো ফিট ছিলেন না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। হারের যে কারণগুলোর কথা বলেছেন তার মধ্যে ওয়াকার ইউনিসের বাজে অধিনায়কত্বও রয়েছে।

শোয়েব বলেন, ‘২০০৩ বিশ্বকাপের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছিল আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সব চেয়ে হতাশাজনক ম্যাচ। দুর্দান্ত বোলিং লাইন নিয়েও আমরা ২৭৪ নিয়ে প্রতিপক্ষকে বেঁধে রাখতে পারিনি।’

‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ বলেন ম্যাচের আগের রাতে তাকে চার থেকে পাঁচটি ইনজেকশন নিতে হয় বাঁ হাঁটুতে, ‘ইনজেকশনের জন্য বাঁ পায়ের হাঁটুতে জল জমে গিয়েছিল। আমার হাঁটুতে কোনো অনুভূতিই ছিল না।’

পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের শেষে ড্রেসিং রুমের কথাও জানিয়েছেন শোয়েব। বলেন, ‘‘আমাদের ইনিংসের শেষে দলের সতীর্থদের বলেছিলাম, আমরা ৩০-৪০ রান কম করেছি। আমার কথা শুনে দলের বাকিরা চেঁচিয়ে উঠেছিল। সবাই বলেছিল, ২৭৩ রানও যদি জেতার জন্য যথেষ্ট না হয়, তা হলে কত রান দরকার। অনেকেই বলেছিল, আমরা ভারতকে আউট করে দিতে পারব। আমি জানতাম পিচ ব্যাটিং সহায়ক। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটসম্যানরা সুবিধা পাবে।’

শোয়েব বলেন, ‘আমরা যখন বল করতে নেমেছিলাম, তখন আমার বাঁ পায়ে কোনও অনুভূতিই ছিল না। ঠিকমতো দৌড়তে পারছিলাম না। শচীন আর শেবাগ শুরু থেকেই মারছিল। শচীন আমাকে খুব সহজেই খেলে দিচ্ছিল। এমনকি পয়েন্টের উপর দিয়ে আমাকে ছক্কাও মারে।’

শোয়েব মার খাচ্ছেন দেখে অধিনায়ক ওয়াকার ইউনিস তাকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে নেন। পরে আবার শোয়েবকে আক্রমণে আনেন ওয়াকার। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন শোয়েব। ফেল আক্রমণে এসে শর্ট বল করতে থাকেন শোয়েব। একটা দুরন্ত গতির শর্ট বল থেকে শচীন ব্যাট সরাতে না পেরে আউট হন।

সেই প্রসঙ্গ টেনে শোয়েব বলেন, ‘আমি ক্যাপ্টেনকে বলেছিলাম শুরু থেকেই এভাবে আমি বল করতে পারতাম। আমার ফিটনেস ঠিক ছিল না। তা ছাড়া অত্যন্ত দুর্বল নেতৃত্বের জন্য ম্যাচটা হারতে হয়েছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত