গণধর্ষণের পর মাদক দিয়ে থানায় দেওয়ায় ওসি-এসআই প্রত্যাহার

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০১:২৩ পিএম

খুলনার জিআরপি (রেলওয়ে) থানায় তিন সন্তানের মাকে (৩০) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে থানার ওসি ওসমান গণি পাঠান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার সকালে তাদের প্রত্যাহার করা হয়।

থানায় এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফিরোজ আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে গত সোমবার দুপুরে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটি ঘটনাটি সরেজমিন অনুসন্ধান করে সুস্পষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ.ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

ওই তরুণীর এক আত্মীয় জানান, গত ২ আগস্ট ঘটনার রাতে খুলনা রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি ওসমান গণি পাঠান, এসআই গৌতম কুমার পাল, এসআই নাজমুল হাসান, কনস্টেবল মিজান, হারুন, মফিজ, আব্দুল কুদ্দুস, আলাউদ্দিন, কাজলসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

তবে, ওই নারী ওসি ওসমান গণি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ করেছেন।

ওই নারীর অভিযোগ, সেদিন যশোর থেকে ট্রেনে আসার সময় ফুলতলা এলাকায় জিআরপি পুলিশ প্রথমে তাকে মোবাইল চুরির অপরাধে থানায় ধরে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে ওসি ওসমান গণি পাঠান তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর আরও ৪ জন পুলিশ সদস্য ধর্ষণ করেন। পরদিন ৩ আগস্ট ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ মামলা দিয়ে তাকে খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেন।

আদালতে বিচারকের সামনে নেওয়ার পর সেই নারী জিআরপি থানায় তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। এরপর আদালতের বিচারক তার মেডিকেল পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা খুলনা জিআরপি থানার ওসি ওসমান গণি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একজন নারীর তোলা ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন। পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাদের ক্লোজ করা হয়েছে। বাকি তিন পুলিশ সদস্যের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে, তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত