দিনাজপুরের হাকিমপুরে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা হয়েছে। সড়কের ১০০টি বনজ গাছ চুরির অভিযোগে মামলাটি করেছেন হাকিমপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শামসুল আলম খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। মামলা হয় গত শুক্রবার রাতে। ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলো হাকিমপুরের সরঞ্জাগাড়ী গ্রামের হারুনুর রশিদ (৩৫), একই এলাকার মিনহাজুল ইসলাম (২৫), দবিরুল ইসলাম (২৪) ও রুবেল ইসলাম (৩৫)। তবে এ মামলার ব্যাপারে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
খট্টামাধবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান জানান, তার বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরেই ষড়যন্ত্র করে আসছিল। উপজেলা বন কমিটিতে অবৈধভাবে গাছ কাটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয় এবং আমাকে বাদী হয়ে গাছচোরদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু ওই মহলের মদদে উল্টো আমাকেই হুকুমের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি ওই রাস্তার গাছ কাটার ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। অপরাধীরাই নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে।
ওই রাস্তার কয়েকজন উপকারভোগী জানান, রাস্তাটিতে ১০৯ উপকারভোগী সদস্য রয়েছেন। ঢেলুপাড়া গ্রামের জনৈক রশিদের নির্দেশে শ্রমিকরা গত শুক্রবার ওই রাস্তার কয়েকটি গাছ কাটে। আমরা ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করি। তবে ইউপি চেয়ারম্যান তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাকেই আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউপির খট্টামৌজার ঢেলুপাড়া গ্রামের একটি কাঁচা রাস্তার দুই পাশের ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনির প্রায় ১০০টি বনজ গাছ গত শুক্রবার দুপুরে কাটার অভিযোগে ওই দিন রাতেই খট্টামাধবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানকে হুকুমের আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন উপজেলা বন কর্মকর্তা। এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানসহ বাকিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
