নগরবাসীকে ঈদের আনন্দে প্রাণবন্ত রাখতে প্রস্তুত রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঈদের কয়েক দিন চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জাদুঘর, শিশুমেলা, অদূরে ফ্যান্টাসি কিংডম, পূবাইলের তিনশ ফিট এলাকা, মোহাম্মদপুরের বছিলা ব্রিজ, লালবাগ কেল্লা, রমনা পার্ক ও চন্দ্রিমা উদ্যানে দেখা যাবে মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
চিড়িয়াখানার তথ্য কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের সময় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের চাপ বেশি থাকে। প্রতিবারের মতোই এবারও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের প্রস্তুতি শেষ করেছেন। আশা করছি মানুষ নির্বিঘেœ চিড়িয়াখানায় এসে আনন্দময় সময় কাটাতে পারবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে। সাধারণত রবিবার চিড়িয়াখানায় সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। কিন্তু ঈদের সময় টানা এক সপ্তাহ খোলা থাকবে।’
চিড়িয়াখানার পাশের বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রকৃতির নিবিড় ছায়াতলে অনেকেই ভিড় জমাবেন। দর্শনার্থীদের ঘুরে বেড়ানো যেন আনন্দময় হয় সে জন্য সেখানকারও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর ঈদ উপলক্ষে খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। পথশিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্করা বিনা টিকিটে ঈদের ছুটিতে ঘুরে দেখতে পারবেন জাদুঘর। কিপার ড. শিহাব শাহরিয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের দিনেও খোলা থাকবে। জাদুঘরে পথশিশু ও বয়স্করা বিনা টিকিটে পরিদর্শন করতে পারবে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে সেমিনার।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত শ্যামলীর শিশুমেলা হয়ে উঠবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, মিরপুর, ধানম-ি এলাকার মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এখানে আছে ৪০টির মতো রাইড। পরিবারের সবার চড়ার মতো আছে ১২টি রাইড। ঈদের প্রথম সাত দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে।
এ ছাড়া মোহাম্মদপুর এলাকার মানুষ মুক্ত হাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়াতে পারবে বছিলা ব্রিজ, চন্দ্রিমা উদ্যান ও সংসদ ভবন এলাকায়। পুরান ঢাকার মানুষ ঘুরে বেড়াবে লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলে। নগরীর অন্যান্য পার্ক, উদ্যান ও খোলা জায়গাগুলোতে বহু মানুষ সমবেত হবে। হাতিরঝিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্কসহ খোলামেলা সব জায়গায় মানুষ মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবে। রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডমেও ভিড় জমাবে অনেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা।
