ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার জম্মু-কাশ্মীরে কারফিউ শিথিল করা হলেও পরদিন আবারও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রবিবার আবারও মানুষকে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এনডিটিভি জানায়, পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে এবং পাথর ছোড়ার ঘটনা ছাড়া অবাঞ্ছিত কিছুই ঘটেনি, শনিবার এমন দাবি করে রাজ্য পুলিশ।
তবে বিবিসি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রীনগরে ১০ হাজার মানুষের এক বিক্ষোভে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এ ছাড়া মানুষকে পেলেট গান দিয়ে অন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
শনিবার আল জাজিরা জানায়, অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি করা কারফিউ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল ঈদ উপলক্ষে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পেরে এটিএম বুথ এবং দোকানপাটে ভিড় জমায়।
তবে রবিবার পুলিশ গাড়িতে করে ঘুরে ঘুরে লাউড স্পিকারে মানুষজনকে ঘরে ঢুকে যেতে নির্দেশ দেয়।
এ দিকে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে, কাশ্মীরে গুলি চালানোর খবর সত্য নয়। এ সংক্রান্ত কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য মানুষের কাছে আহ্বান করা হয়েছে।
এর আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমকে জানান, জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি ভালো নয়। দেশের নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।
সোমবার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে অঞ্চলটি কার্যত পুরোপুরি দখলে নিয়ে নিল ভারত। ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর সামরিক পরিস্থিতি জারি করা হয়েছে সেখানে। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে পুরো পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে অঞ্চলটিকে। সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহসহ ৪০০ স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ভারত সরকার।
এ দিকে রাজ্যসভার এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসছে অঞ্চলটির জনগণ। কারফিউ ভেঙে এরই মধ্যে রাস্তায় নামা শুরু করেছে মানুষ। মঙ্গলবার রাত থেকে শ্রীনগরের বেশ কিছু জায়গা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
