শিশু গৃহকর্মীকে মারধরের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৩৫ পিএম

রাজধানীর পূর্ব রামপুরা আব্দুল্লাহবাগ মসজিদ এলাকার বাসা থেকে তাসলিমা বেগম (৩৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, মঙ্গলবার রাতে শিশু গৃহকর্মীকে মারধর করেন তার স্ত্রী। এতে তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে প্রতিবাদ ছিলেন। এরপর তার স্ত্রী অভিমান করে আত্মহত্যা করেন।

রামপুরা থানার ওসি আবদুল কুদ্দুছ ফকির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘরের দরজা ভেঙে স্বজনরা ওই নারীর লাশ উদ্ধার করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে কেউ পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। এমনকি মৃতের বাবার বাড়ির লোকরাও ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।

মৃতের স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানান, পোশাক কারখানার যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী সদরে। ঢাকায় আবদুল্লাহবাগের দোতলার বাসায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। এই বাসায় ৮/৯ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে। মঙ্গলবার রাতে কোনো ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন তাসলিমা। এ সময় ছোট্ট মেয়েটিকে মারধর করায় তিনি  স্ত্রীকে বকুনি দেন। এতে অভিমান করে তখনই নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন তাসলিমা। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। একপর্যায়ে তার দুই মেয়ে বলে, ‘মাকে কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকতে দাও বাবা, একটু পরই রাগ কমে যাবে।’ মেয়েদের পরামর্শই মেনে নেন তিনি। তবে দীর্ঘসময়েও স্ত্রী দরজা না খোলায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তারপর দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় স্ত্রীকে দেখতে পান তিনি। তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ সময় চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, আরো আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ওসি আবদুল কুদ্দুছ ফকির জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত