ভারতের স্বাধীনতা দিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে বলেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটিতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে। দিল্লিভিত্তিক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিশিষ্ট ফেলো অশোক মালিক মনে করছেন, কাশ্মীরের প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কট্টর মনোভাব এমন পরিবেশ তৈরি করেছে, যাতে করে মোদির সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়েছে। সংস্থাটির বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
২০১৬ সালের জুলাইয়ে বিদ্রোহ দমন অভিযানে সশস্ত্র বিদ্রোহী নেতা বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর ফুঁসে ওঠে কাশ্মীর। ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মীরে অস্থিরতার নতুন পর্যায় শুরু হয়। আজাদির (স্বাধীনতা) জন্য কান্না ঢাকা পড়ে যায় জিহাদের আহ্বানে। ওই আহ্বান স্বাধীন কাশ্মীর কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ছিল না; এটি ছিল খেলাফতের ডাক। ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও এ ধরনের সংগঠনগুলোর সেøাগান, ভিডিও ও ছবি কাশ্মীরের অনেক তরুণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব তৈরি করে। ২০১৬ সালের ঘটনাগুলোর অন্য প্রভাবও ছিল। এগুলো কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বক্তব্যগুলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে বামপন্থি সংগঠনগুলোর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, গণমাধ্যমের বিতর্ক ও জনপরিসরে আলোচনার বিষয় বানায়।
ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীর সমস্যা ভারতীয় মুসলমানকেন্দ্রিক বিবাদ ছিল না। কাশ্মীরের মুসলমানরা অন্যসব ভারতীয় মুসলমান বা হিন্দুদের চেয়ে নিজেদের আলাদা মনে করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ কাশ্মীরি মুসলমানদের পড়ালেখা ও চাকরিতে যোগদান বেড়েছে। কাশ্মীরি মুসলমানরা ক্যাম্পাস রাজনীতির অংশ হয়েছে। তারা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদগুলোতে নির্বাচিত হচ্ছে। তাদের দূরবর্তী রাজ্য কেরালা কিংবা গোয়ায় কর্মরত পাওয়া যাবে। ভারত রাষ্ট্র হয়তো মনে করতে পারে, এর মধ্য দিয়ে তরুণ কাশ্মীরিরা ভারতের বৈচিত্র্য ও অর্থনৈতিক সুযোগগুলোর সঙ্গে পরিচয় হতে পারে এবং তাদের ভারতের সঙ্গে ঐক্যের বৃহত্তর যোগসূত্র তৈরি করতে পারে। এমনটা কিছুমাত্রায় হলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারণাও ছড়িয়েছে কট্টর বাম এবং সংখ্যায় কম হলেও সক্ষম ভারতীয় তরুণ মুসলমানদের মাধ্যমে। ২০১৬ সালের পর থেকে তাদের মোদি ও ভারত রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান বিপরীত পরিস্থিতিও সৃষ্টি করেছে। গোটা ভারতেই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
