বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পুলিশ ভন্ডুল করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
লাখাই থানা পুলিশের দাবি এ অনুষ্ঠানের জন্য কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। বিশৃঙ্খলা এড়াতে তা বন্ধ করা হয়েছে।
তবে আয়োজক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম মাহফুজ জানান, লাখাই থানার ওসির মাধ্যমে ১৩ আগস্ট পুলিশ সুপারের কাছ থেকে অনুষ্ঠানের অনুমতি নেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বিশৃঙ্খলা হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বামই বাজার সংলগ্ন খালি জায়গায় শোক দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে লাখাই থানার ওসি এমরান হোসেন সেখানে যান। তিনি অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পূর্বানুমতি থাকার পরও কেন বন্ধ করা হবে জানতে চাইলে ওসি এমরান হোসেন আয়োজকদের জানান ‘ওপরের নির্দেশেই’ তিনি বন্ধ করতে এসেছেন।
এ নিয়ে সভাপতি মাহফুজুল আলম মাহফুজসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওসির তর্ক হয়। একপর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এর কিছুক্ষণ পর বেশ কিছু পুলিশ নিয়ে ওসি আবারো সেখানে যান। তার নির্দেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত শোক দিবসের ব্যানার খুলে ফেলেন। ফলে পণ্ড হয়ে যায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
মাহফুজুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাদা থাকায় আব্দুর রহিম প্রাইমারি স্কুলমাঠের পরিবর্তে পাশের বামই বাজারের একটি খালি জায়গায় অনুষ্ঠানটি স্থানান্তর করা হয়েছিল। ওসির কাণ্ড দেখে উপস্থিত নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন। বাধার মুখে আমরা মিলাদে অংশ নেয়া লোকজনকে শিরনি পর্যন্ত দিতে পারেনি। ওসি ‘শুধু ওপরের নির্দেশ’ কথা বলে রাষ্ট্রীয় এ অনুষ্ঠানটি পালন করতে দেননি।
আমার এমপি ডটকম’র প্রতিষ্ঠাতা সুশান্ত দাশ গুপ্ত ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘বিএনপি-জামায়াত আমলেও এমন হয়েছে কি না জানি না! আজ (১৫ আগস্ট) হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগকর্তৃক পূর্বানুমতি নিয়ে আয়োজিত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস চলাকালীন সময়ে লাখাই থানার ওসির উপস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা ব্যানার খুলে নিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীদের অসহায়ত্বে প্রকৃতিও যেন কেঁদে উঠেছিল। পুলিশের এই অতি উৎসাহি কার্যক্রমের ক্রীড়নক কে? এই ঘৃণ্য কার্যক্রম এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার জন্য সুষ্ঠু বিচার দাবি জানাই’।
জানতে চাইলে লাখাই থানার ওসি এমরান হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই অনুষ্ঠানের আয়োজকরা কোনো অনুমতি নেননি। ওই দিন দুপুরে শোক দিবসের অনুষ্ঠান উপজেলা পরিষদে হয়েছে। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। একই বিষয়ে একাধিক অনুষ্ঠানের কোনো প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া ওই অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা ছিল।
অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
