ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা রোধে ব্যর্থতা ও আক্রান্তদের চিকিৎসা যথাযথভাবে না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।
আদালত বলেছে, এ নিয়ে আগেই যথাযথ পদক্ষেপ নিলে এমন পরিস্থিতি হতো না। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হিসাবে গরমিল থাকায় অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ও নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করে আদালত।
ডেঙ্গু পরীক্ষায় বেসরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে-এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা তদারকির নির্দেশনা এবং ডেঙ্গুর চিকিৎসায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এ নিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের শুনানিতে রবিবার এসব মন্তব্য করেন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে কোনো রুল বা আদেশ দেয়নি।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
তিনি আদালতে জানান, হাইকোর্টের নির্দেশের পর ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদারকি করে ব্যবস্থা নেয়। সরকারি হাসপাতালে বিনা ফিতে এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৫০০ টাকা ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু রোগের বিস্তার লাভ করলেও বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওষুধ আমদানি শুল্কমুক্ত করা হয়েছে। যেসব হাসপাতাল সরকারি নির্দেশনা মানছে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলে, ডেঙ্গু রোগে বেসরকারি হিসাবে ৭২ জন মারা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ রোগ প্রতিরোধে যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। এমনকি কয়েকটি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা পাওয়া গেছে।
বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা বলছেন, রোগীরা হাসপাতালে যাচ্ছে, তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তো ট্রিটমেন্ট পাচ্ছে না। এমনকি আমার একজন স্টাফকে পাঠিয়েছিলাম। তাকেও অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনারা বলছেন, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু গোয়ালে গরু নেই, কাগজে-কলমে সব ঠিক আছে।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে আরও জানান, সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন মারা গেছে। আদালত তখন বলে, বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। যাদের পরিবারের সদস্য মারা গেছে তাদের অবস্থা ভেবে দেখুন। ডেঙ্গু এখন মহামারী রূপ নিচ্ছে। যদি আগে থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হতো তাহলে এ পরিস্থিতি হতো না।
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ও নিধনে ব্যর্থতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে আদালত বলে, এর আগে দুই সিটিকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা সাধারণ মানুষকে ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে বলল। এডিস মশার জন্ম হয় পানির মধ্যে। কিন্তু সিটি করপোরেশন সেটি পরিষ্কার না করে, ময়লা পরিষ্কার করার কথা বলল, এটি নেহাতই হাস্যকর। আসল কথা হলো মশা মারতে হবে। এটি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। কিন্তু তারা যথাযথভাবে তা করেনি। যদি তা করত তাহলে ডেঙ্গুর এত বিস্তার হতো না।
হাইকোর্ট বলেছে, বছরের পর বছর কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই একই ধরনের ওষুধ ছিটানো হয়েছে। যাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তাদের দেওয়া হলো মশা নিধনের দায়িত্ব।
