চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের প্রয়াত পরিচালকের স্মৃতির ওপর মিউজিয়াম প্রকল্পের পক্ষে-বিপক্ষের বিরোধের জের ধরে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। গাড়ি চুরিসহ প্রয়াতের স্মৃতিবিজড়িত মূল্যবান আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী অপসারণ করে আত্মসাতের পাঁয়তারার অভিযোগ করছে প্রয়াতের পরিবার। এ ব্যাপারে কাপ্তাই থানায় জিডি করা হয়েছে। দুই পক্ষের এমন দ্বন্দ্বে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।
উল্লেখ্য, প্রয়াত ডাক্তার চৌধুরীর জীবদ্দশায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিকসহ সর্বক্ষেত্রে অবদান রাখার কারণে তিনি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে ছিলেন খুবই প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তার বাসভবনে মহান স্বাধীনতাসংগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের পরিকল্পনা নেওয়া হতো। মুক্তিযুদ্ধের বহু কর্মকা-ের সঙ্গে এই বাসভবনের স্মৃতি জড়িত। এলাকার খ্রিস্টিয়ান সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ চায় বাসভবনটি যেন এই কীর্তিমান পুরুষের স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষিত হয়।
প্রয়াত পরিবারের ডা. এনজলা চৌধুরী বলেন, এলাকার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মিউজিয়াম প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে বাসভবনসহ প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গার ওপর প্রয়াত পরিচালক ‘ডাক্তার এস এম চৌধুরীর মিউজিয়াম প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। এখানে প্রয়াতের সমাধির পাশাপাশি তার ছেলে হাসপাতালের পরবর্তী পরিচালক প্রয়াত ডাক্তার মং স্টিফেন চৌধুরী ও স্ত্রী প্রয়াত প্রসূন চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে সমাধিস্থ করা হয়।
অভিযোগ পাওয়া যায়, মিউজিয়াম প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রমের শুরুতে বর্তমান হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি আপত্তি দিয়ে প্রকল্প বাধাগ্রস্ত করে। এতে এলাকায় বিরোধ দেখা দেয়। দুই পক্ষের আধিপত্যের দ্বন্দ্বে হাসপাতালে আসা রোগীরা স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রয়াত ডাক্তার এস এম চৌধুরীর পুত্রবধূ বিপাশা চৌধুরী জানান, বর্তমান হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ এস এম চৌধুরীর মূল্যবান সম্পদসহ বাসভবন আত্মসাতের পাঁয়তার করছে। একটি প্রাডো জাপানি জিপ গাড়ি ‘চুরি’ করে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াংয়ের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট কাপ্তাই থানায় জিডি করা হয়েছে।
হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ডাক্তার প্রবীর খিয়াং জানান, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ (বিবিসিএস) নিয়ন্ত্রণাধীন হাসপাতাল সম্পদ রক্ষার জন্য কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে পরিচালকের বাসভবন সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
