সোনালি ব্যাংকের ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতির মামলায় নিরাপরাধ পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আসামি করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশ্লিষ্ট ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন আকারে এ তথ্য জানান দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।
তবে, প্রতিবেদনে ওই ১১ কর্মকর্তার নাম, কী অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এ ব্যাপারে বিস্তারিত না থাকায় প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেনি আদালত। বুধবার নতুন করে দুদককে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন হাইকোর্ট।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
শুনানিকালে ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর বিষয়টি হাইকোর্টকে অবহিত করলে আদালত একে সাধুবাদ জানান।
দুদক আইনজীবীর উদ্দেশ্যে আদালত বলে, ‘সরষের মধ্যে ভূত থাকার দরকার নেই, সরষের মধ্যে সরষেই থাকুক। দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আপনারা ভালো কাজ করলে আপনাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।’
দুদক আইনজীবী আদালতকে জানান, সোনালি ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার পুনঃতদন্ত হবে। বেশ কিছু মামলায় পুনঃতদন্ত শুরু হয়েছে।
এ সময় হাইকোর্ট বলেন, ‘পুনঃতদন্ত আপনাদের বিষয়। আমাদের রুলের বিষয় এটি নয়। আমাদের বিষয় ছিল জাহালমকে মুক্ত করা।’
সোনালী ব্যাংকের ওই ঋণ জালিয়াতির ঘটনার মূল হোতা ৩৩ মামলার আসামি আবু সালেকের পরিবর্তে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ধুবুড়িয়া গ্রামের নিরপরাধ জাহালমকে গ্রেপ্তার ও পরে তাকে ২৬ মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় হয়। বিষয়টি ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে জাহালমকে তাৎক্ষণিক কারামুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
ওই দিন দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম। ১১ জুলাই হাইকোর্টে দাখিলকৃত দুদকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলের কারণে জাহালমকে কারাবাস করতে হয়েছে।
