নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ১ নম্বর সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে বুধবার বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই রোগীর স্বজনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনরা। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপে শান্ত হয় পরিস্থিতি।
স্থানীয় আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, ভর্তির পর থেকে কোনো চিকিৎসাসেবা না পেয়ে তার বাবা সফি উল্যা (৭৫) মারা গেছেন। এর প্রতিকার চেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্লাহর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এদিকে ঘটনার পরপরই হাসপাতালে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান খান হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনেন। ওই সময় তিনি মৃতের স্বজন, দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ইমা জানান, রোগীর অবস্থা খারাপ হলে তিনি সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাইফুল ইসলাম, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান ও ডা. কামরুল ইসলামকে বারবার কল দেওয়ার পর তারা কেউ বলেন সন্ধ্যা ৬টার পর আসবেন, কেউ বলেন আগামীকাল আসবেন। এর মধ্যে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে রোগীর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পরপরই ডা. কামরুল ইসলাম হাসপাতালে আসেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, রোগীর আত্মীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মহিউদ্দিন আজিম জানান, সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের সফি উল্যা গত রবিবার হাসপাতালের ১ নম্বর সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি হন। বুধবার বিকেল ৪টায় তার মৃত্যু হয়। কোনো চিকিৎসকের অবহেলা থাকলে তত্ত্বাবধায়ক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
