মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন। চলছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ। অপেক্ষায় গাড়ি, ট্রাক। শুধু নেই মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঘিরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ১২টা নাগাদ এমনটাই ছিল কক্সবাজারের টেকনাফের শালবাগান এলাকার চিত্র।
সরেজমিন দেখা যায়, প্রত্যাবাসনে রাজি হওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সেখানে পাঁচটি বাস অপেক্ষায় রয়েছে। মালামাল পরিবহনে প্রস্তুতি আরও তিনটি ট্রাক। তবে ১২টা নাগাদ সেখানে পৌঁছাননি কোনো রোহিঙ্গা।
ঘটনাস্থলে রয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর কর্মকর্তারা। নিজ উদ্যোগে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন চীনের দুজন এবং মিয়ানমারের একজন প্রতিনিধি।
ঘটনাস্থলের নিরাপত্তায় রয়েছে পুলিশ, র্যাব, আনসার সদস্যরা। আর নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিকেল নাগাদ ১০ থেকে ১২টি রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করতে পারে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সর্বাত্মক প্রস্তুতির কথা জানিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, কাউকে জোর করে প্রত্যাবাসনে বাধ্য করা হবে না। বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।
রোহিঙ্গাদের মধ্যে একাধিক নেতা গোছের সদস্য মনে করেন, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতেই নামমাত্র প্রত্যাবাসন করার কৌশল নিয়েছে। গত দুদিন ধরে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে তারা কেউই রাখাইনে ফিরতে নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না। তারা বলছে, এখানে বিষ খেয়ে মরে গেলেও ফিরে যাবে না।
তাদের মতে, ২০০-৪০০ রোহিঙ্গাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রত্যাবাসন করা হবে। তখন মিয়ানমার থেকে বলা হবে, প্রত্যাবাসন শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশে থাকা এসব রোহিঙ্গা নিজেদের ভূমি রাখাইনে ফিরতে চায় নাগরিক হিসেবে সব মর্যাদা নিয়ে। ক্যাম্পে গাদাগাদি করে থাকতে তাদেরও কষ্ট হয়।
টেকনাফ আওয়ামী লীগের এক নেতা বুধবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত মঙ্গলবার ১০-১২ রোহিঙ্গা পরিবারকে সরিয়ে উখিয়ার ঘুমধুমে রাখা হয়ে প্রত্যাবাসন ক্যাম্পের কাছে। তাদের জোর করা হচ্ছে রাখাইনে ফিরে যেতে সম্মত হওয়ার জন্য। এই কয়েকজনকে দিয়েই প্রত্যাবাসন শুরু হবে এমনই ধারণা সবার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সরকারের নীতি হলো প্রত্যাবাসনে সবসময়ই ইতিবাচক মনোভাব দেখানো। মিয়ানমার সবসময়ই প্রত্যাবাসন নিয়ে কৌশল করে। এটাও আমরা বুঝছি, তারা জাতিসংঘের অধিবেশনের আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করে নিজেদের বদনাম ঘোচাতে চায়। আর বাংলাদেশের জন্যও এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ।
