রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সুদানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন আবদুল্লাহ হামদুক।
মিলিটারি কাউন্সিল ও গণতন্ত্রপন্থী বিরোধী দলগুলোর মধ্যে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার প্রশ্নে গত শনিবার ঐতিহাসিক সাংবিধানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
তিন দশকের একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসানের পর প্রথম দেশটিতে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়।
ডেইলি সাবাহ জানায়, চুক্তি অনুসারে বৃহস্পতিবার তিন বছরের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।
বৃহস্পতিবার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সার্বভৌম কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাতাহ আল-বুরহান।
শপথ গ্রহণ করেই প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদুক সাংবাদিকদের বলেন, দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি বন্ধ করা, শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীল পরিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক সমাধানকে প্রধান্য দেবে তার সরকার।
আন্তর্জাতিকভাবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুনাম আছে হামদুকের। ১৯৮৯ সালের পর এ প্রথম বেসামরিক প্রধানমন্ত্রী পেল সুদানের জনগণ।
তিন দশকের একনায়কতান্ত্রিক সামরিক শাসক ওমর আল বশিরের বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে দেশটিতে গণআন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের মুখে ১১ এপ্রিল সেনাবাহিনী বশিরকে সরিয়ে দেয়।
সেই থেকে সেনা কাউন্সিলের হাতেই ছিল সুদানের নিয়ন্ত্রণ। তবে বশিরের পতনের পরও বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আন্দোলন চলতে থাকে।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়। তবে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন থামেনি। শেষ পর্যন্ত বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ও একটি নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির এই চুক্তিতে পৌঁছতে সক্ষম হয় মিলিটারি কাউন্সিল ও গণতন্ত্রপন্থিদের জোট ফোর্সেস ফর ফ্রিডম এন্ড চেঞ্চ (এফএফসি)।
সাংবিধানিক ঘোষণার লক্ষ্যে খার্তুমে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারপার্সন মুসা ফাকি মাহামাত, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসগলু, উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যাম কুতেসা, জিবুতির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ইউসুফ, দক্ষিণ সুদান, চাঁদ, কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী। মিশরের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি বর্তমানে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। অনুষ্ঠানে সিসিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত হননি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা কেমাল মাদুবুলি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট ডেপুটি মিনিস্টার শেখ সাবাহ খালিদ আল হামাদ আল সাবাহ, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আব্দেল আল-জুবেইর, বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিদ বিন আহমেদ আল খলিফা এবং মুসলিম দেশগুলোর সংস্থা ওআইসির মহাসচিব ইউসেফ আল-ওথেইমিন। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করেন ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেকা হাভিস্তো।
