ঋণ শোধ করতে কিডনি বিক্রির পোস্টার কৃষকের

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৩:১১ পিএম

ঋণ শোধ করতে কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন ভারতের এক কৃষক। গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় কিডনি বিক্রি ইচ্ছুক বলে পোস্টার লাগিয়েছেন তিনি। 

সংবাদ প্রতিদিন জানায়, উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলায় ছত্তর সালি গ্রামের বাসিন্দা কৃষক রাম কুমার।

চাষাবাদ ও পশুপালনের জন্য আত্মীয়দের কাছ থেকে অর্থ ধার করেছিলেন তিনি। সেই ধার মেটাতে ব্যাংকের কাছে ঋণের জন্য আবেদন জানালে তা ফিরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। শেষমেশ ধার মেটাতে নিজের কিডনি বেচতে ইচ্ছুক এই কৃষক।

জানা যায়, ৩০ বছর বয়সী রাম কুমার চাষাবাদের পাশাপাশি পশুপালনেও আগ্রহী ছিলেন। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ প্রকল্পের অধীনে ডেইরি ফার্ম সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও নেন।

প্রশিক্ষণ শেষে ডেইরি ফার্ম খুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন তিনি। প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য এলাকার সমস্ত সরকারি ব্যাংকে আবেদন জমা করলেও কেউ তাকে পাত্তা দেয়নি। 

এ দিকে পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য ছোটখাটো একটি ডেইরি ফার্মও খুলে ফেলেছিলেন তিনি। কয়েকটা গরু কিনেছিলেন, তাদের রাখার জন্য একটি ঘরও বানিয়ে ছিলেন।

ঘনিষ্ঠ কিছু আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে এই খামার শুরু করেন তিনি। ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার পরেই টাকা মিটিয়ে দেবেন বলে আত্মীয়দের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।

এ দিকে ধার নেওয়া টাকা শোধ করার জন্য আত্মীয়রা ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে রাম কুমারের ওপর।

এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা এই কৃষক টাকা জোগাড়ের কোনো উপায় না দেখে সিদ্ধান্ত নেন নিজের কিডনি বিক্রি করবেন।

কিন্তু কীভাবে কিডনি বিক্রি করবেন তার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত কিডনি বিক্রির পোস্টার ছাপিয়ে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। পোস্টারের নিচে নিজের মোবাইল নম্বরও যুক্ত করে দিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদান কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সরকারি প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের ঋণ পাচ্ছেন না রাম কুমার। প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট প্রদর্শন করলেও তাকে ঋণ দিতে ইচ্ছুক নন ব্যাংক কর্তৃপক্ষগুলো।

সাহারানপুর ডিভিশনাল কমিশনার সঞ্জয় কুমার বলেন, “এই সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল আমার। সংবাদমাধ্যম সূত্রে পুরো বিষয়টা জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তারপর বলতে পারব রাম কুমারকে ব্যাংক কেন ঋণ দেয়নি।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত