কাশ্মীর: জুম্মার পর শ্রীনগরে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১২:৪৩ এএম

ভারত শাসিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে ফের জুম্মার নামাজের পর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে।

বিবিসির সংবাদদাতা আমীর পীরজাদা জানান, শুক্রবারের নামাজের পর পরই শ্রীনগরের সৌরা এলাকায় একটি বিক্ষোভ চলাকালীন হঠাৎই তা হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকে পাথর নিক্ষেপ শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনী জবাবে ছররা গুলি আর কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েছে।

এ সময় তিনি অন্তত দুজনকে আহত হতে দেখেছেন। তবে, প্রশাসনের তরফ থেকে আহতের সংখ্যা এখনো পর্যন্ত জানানো হয়নি। আজকের সংঘর্ষপ্রায় ঘণ্টা দু-এক চলেছিল, বেলা চারটা পর্যন্ত।

৩৫এ আর ৩৭০ ধারা বিলোপের পরে এই সৌরা এলাকাতেই প্রথম বড়সড় বিক্ষোভ হয়েছিল দু-সপ্তাহ আগে শুক্রবারের নামাজের পরেই। গত শুক্রবারও নামাজের পরে একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল হয়েছিল। কোনও গন্ডগোল হয়নি।

গতবারের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে আমীর পীরজাদা আজ নামাজ শুরু হওয়ার কিছুটা আগেই সহকর্মী ক্যামেরাপারসন নেহা শর্মাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।

তিনি বলেন, তখন মাজারে মানুষ জড়ো হওয়া শুরু হয়েছিল। নারী আর পুরুষ উভয়েই নামাজ পড়তে আসেন এখানে। প্রথম নামাজের পরে স্বাধীনতাপন্থী কিছু স্লোগান ওঠে। তারপরে একটা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে তখন বেশ কয়েক হাজার মানুষ হাজির ছিলেন।

তিনি জানান, গত সপ্তাহের মতোই আজকের বিক্ষোভ মিছিলটাও নানা অলি গলি ঘুরে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই একটা জায়গায় গলির ভেতরে নিরাপত্তা বাহিনী ঢুকতে চেষ্টা করে। তখনই অশান্তি শুরু হয়।

বিবিসির সংবাদদাতা জানান, নিরাপত্তাবাহিনী যাতে ভেতরে ঢুকতে না পারে, সে জন্য বড় রাস্তা থেকে যত গলি ভেতরে ঢুকেছে, সেই সব গলিগুলো খুঁড়ে রেখে দিয়েছেন, কোথাও বড় বড় ব্যারিকেড রেখে দিয়েছেন ওখানকার বাসিন্দারা। পুলিশের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারে না ওখানে। ভেতরে ঢুকতে গেলে পুলিশকে হেঁটেই ঢুকতে হবে।

তিনি জানান, এ রকমই একটা গলি দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে একদল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। সৌরাতে যখনই পুলিশের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ বাঁধে, তখনই সব বাড়ি থেকে টিন বাজানো শুরু হয়ে যায়। আর সব মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সংঘর্ষে নেমে পড়ে। আজকেও সেরকমই ঘটনা হলো। পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর দলটা যেই ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করল, তখনই পাথর নিক্ষেপ শুরু হলো একদিকে, আর অন্যদিকে সব বাড়ি থেকে টিন বাজানো হতে লাগল। সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই গলিটার দিকে দৌড়তে লাগল।একদিক থেকে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে, অন্যদিক থেকে ছররা গুলি, কাঁদানে গ্যাস আর গোলমরিচের গোলা ছোঁড়া হচ্ছিল।

তিনি জানান, আজকের সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তাবাহিনীর হাত থেকে সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি। সাধারণত নিরাপত্তাবাহিনীর পেছন দিক থেকে সাংবাদিকরা ছবি তুলে থাকেন। কিন্তু ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকে ওইদিক থেকে আমাদের ছবি তুলতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমরা বাধ্য হচ্ছি বিক্ষোভকারীদের পেছন দিক থেকে ছবি তুলতে।

তিনি বলেন, আমাদের নাকেও গোলমরিচের গ্যাস ঢোকে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা লবণ আর জলের ব্যবস্থা করেছিলেন। তার ফলে কিছুটা স্বস্তি পাই আমরা।

সৌরাতে অশান্তি হলেও শহরের অন্যান্য অঞ্চলে কোনও বিক্ষোভ বা অশান্তির খবর পাওয়া যায় নি।

বিবিসির সহকর্মী রিয়াজ মাসরুর হজরতবাল দরগা সহ শহরের নানা বড় মসজিদ ঘুরে জানিয়েছেন, আজ তৃতীয় সপ্তাহের মতো শুক্রবারের নামাজের জন্য বড় জমায়েতের অনুমতি দিচ্ছে না। সোপিয়ান, কুলগাম, বারামুল্লা, কুপওয়াড়া বা অনন্তনাগ এলাকাতেও একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু রয়েছে।

মাইক বাজানোরও অনুমতি নেই কোনও মসজিদে।

বড় মসজিদ গুলিতে শুক্রবারের নামাজের জমায়েতের অনুমতি না থাকলেও এলাকার ছোট ছোট মসজিদ গুলিতে নামাজ পড়তে কোনও বাধা নেই।

কদিন ধরেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা হচ্ছিল, কিন্তু শুক্রবারের নামাজের পরে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে যে পোস্টার পড়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই প্রশাসন আজ আবারও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কিন্তু প্রশাসন এটাও বলছে যে আগামী কাল থেকে আবারও কড়াকড়ি শিথিল হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত