কাশ্মীরে যেতে দেওয়া হলো না কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। শ্রীনগরে বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকেসহ বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের দিল্লিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমস, গণশক্তিসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখতে শনিবার সকালে বিরোধী দলীয় প্রতিনিধিদের একটি দল দিল্লি থেকে শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু প্রশাসনের বাধায় শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকেই ফিরে আসতে বাধ্য হন তারা।
রাহুল গান্ধী ছাড়াও বিরোধী দলীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন সিপিআই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদ, মাজিদ মেমন, জনতা দলের নেতা শরদ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা মনোজ ঝাঁ সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।
শুক্রবার সংসদে রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গোলাম নবী আজাদের সঙ্গে বৈঠকে কাশ্মীর সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিরোধী নেতাদের কাশ্মীর সফরের সিদ্ধান্তের খবর মিলতেই তৎপর হয় স্থানীয় প্রশাসন।
জম্মু-কাশ্মীরের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তর টুইট বার্তায় জানিয়ে দেয়, সীমান্তে সন্ত্রাস ও জঙ্গিদের হাত থেকে যখন জম্মু-কাশ্মীরবাসীকে রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার, সেই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতাদের আর বিড়ম্বনা না বাড়ানোই উচিত।
এতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আরজি, দয়া করে সহযোগিতা করুন। শ্রীনগরে আসবেন না। তাদের বোঝা উচিত, এই মুহূর্তে প্রধান দায়িত্ব হলো শান্তি বজায় রাখা।
কিছুদিন আগেই কাশ্মীর যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল। টুইটারে তাকে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল।
৩৭০ ধারা বাতিলের বিরোধিতা জানিয়ে আসছে কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী দল। এই ধারা বিলোপের পর কাশ্মীর রওনা দিয়েছিলেন সে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদ। কিন্তু দু’বার তাকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
একইভাবে সীতারাম ইয়েচুরি ও ডি রাজাও শ্রীনগর রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদেরও বিমানবন্দর থেকে ফেরানো হয়। এ ছাড়া একপ্রকার বন্দী অবস্থায় রয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি।
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট ভারতের বিজেপি সরকার জম্মু-কাশ্মীরের দীর্ঘ ৭০ বছরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়া হয়। তার আগের দিন থেকে অঞ্চলটিতে কঠোর সামরিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়।
সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীসহ এখন পর্যন্ত অন্তত চার হাজার মানুষ রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কারফিউ জারি করে সেখানকার মানুষকে রীতিমতো গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। বন্ধ করে রাখা হয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ এবং টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা। এখন পর্যন্ত কাশ্মীরের সঙ্গে পুরো বিশ্বের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।
